নাবালকদের হাতে বাইক, সতর্ক করলেন খোয়াই মহিলা থানার ওসি মিনা দেববর্মা

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

নিজস্ব সংবাদদাতা : খোয়াই মহিলা থানায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে সড়ক সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মহিলা থানার ওসি মিনা দেববর্মা। তিনি এদিন স্পষ্ট ভাষায় দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিভাবকদের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, তাঁদের অসচেতনতার কারণেই রাজ্যে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত জনসচেতনতা কার্যত বাধার মুখে পড়ছে। মূলত জানুয়ারি মাস জুড়ে ‘জাতীয় সড়ক সুরক্ষা মাস’ পালন করে ‘মৃত্যু শূন্য মাস’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার নির্দেশে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হচ্ছে মূলত অভিভাবকদের গাফিলতির জন্য—এমনটাই মত জনসাধারণের।

ওসি মিনা দেববর্মা এও জানান, সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে খুদে ছাত্রছাত্রীরা নিজ নিজ স্কুলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবে—এটাই স্বাভাবিক। অথচ সেই সুযোগে নাবালকদের হাতে বাইক তুলে দিয়ে অভিভাবকেরাই নিজেদের সন্তানদের জীবনের ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছেন। এদিন খোয়াই শহরে মহিলা থানা ও জেলা পুলিশ সুপারের ‘সিভিল টিমে’র যৌথ বিশেষ অভিযানে প্রায় ২০ জন নাবালককে হেলমেট ও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া বাইক চালাতে গিয়ে আটক করা হয়। এদিকে এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছেকীভাবে অভিভাবকেরা নাবালকদের হাতে মোটরবাইক তুলে দিচ্ছেন? যেখানে আইন অনুযায়ী নাবালককে বাইক চালাতে দিলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে, সেখানে এমন চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কীভাবে সম্ভব? এই প্রশ্ন যেমন সাধারণ মানুষের, তেমনই পুলিশ প্রশাসনেরও।

সাংবাদিক সম্মেলনে ওসি মিনা দেববর্মা সকলের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে এও বলেন, যে কোনো যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে বৈধ লাইসেন্স, হেলমেট ব্যবহার এবং সড়ক সুরক্ষা বিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। তিনি আরও জানান, এই ধরনের বিশেষ অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কোনো নাবালক বাইক চালাতে গিয়ে ধরা পড়লে মোটরযান আইনের ১৯৯ ধারায় সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের বিরুদ্ধে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হবে। সব মিলিয়ে, প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান অভিভাবকদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা—অসচেতনতার মূল্য দিতে হতে পারে সন্তানদের জীবন দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *