অ্যান্টিভেনম ও জলাতঙ্কের প্রতিষেধকের চরম সংকট বাংলায়! নেপথ্যে কোন কারণ? উৎপাদন না কি সরবরাহে ঘাটতি, উঠছে প্রশ্ন

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : রাজ্যে কি প্রতিষেধকের ঘাটতি? বিগত কিছুদিন ধরেই অ্যান্টিভেনম ও জলাতঙ্কের প্রতিষেধকের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সমাজমাধ্যমে অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে জলাতঙ্কের প্রতিষেধকের ঘাটতির। কিছুদিন আগেই বিধাননগরের সল্টলেকে এক মহিলা বেশ কিছু সারমেয়র দ্বারা আক্রান্ত হন। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিধাননগরের একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে জানানো হয় প্রতিষেধক নেই। সরকারি হাসপাতাল থেকে তাঁকে ফেরত আসতে হয় প্রতিষেধক না নিয়েই। এমনটাই অভিযোগ তাঁর পরিবারের। একই রকম ভাবে সমাজমাধ্যমে একাধিক অভিযোগও রয়েছে এই ধরনের প্রতিষেধকের ঘাটতির। এমন ঘাটতির কারণের পিছনে কোন সমস্যা রয়েছে লুকিয়ে? এই ধরনের প্রতিষেধক মূলত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার উৎপাদন করে না। এই প্রতিষেধক উৎপাদন হয় মূলত দক্ষিণ ভারতের কেরল-সহ বেশ কিছু রাজ্যে। আর সেখান থেকেই সরবরাহ করা হয় পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তা হলে এবার প্রশ্ন তবে কি উৎপাদনস্থল বা উৎসস্থল থেকেই সরবরাহে ঘাটতি না কি অন্য কোনও সমস্যা?

সাম্প্রতিক অতীতের ঘটনা, ১৪ আগস্ট আরজিকর মেডিকেল কলেজের আপৎকালীন বিভাগ ভাঙচুর হয় মহিলা ডাক্তারের খুন এবং ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে। সেদিনের ঘটনার ফলে এ ধরনের প্রতিষেধকের ঘাটতি বেশি করে লক্ষ্য করা গিয়েছে কলকাতায়। জানা গিয়েছে ওই ইমারজেন্সি বিল্ডিংয়েউ সঞ্চিত ছিল অ্যান্টিভেনম এবং জলাতঙ্কের প্রতিষেধকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষেধক। ওই দিন ভাঙচুরের পরে এই ধরনের বহু প্রতিষেধক নষ্ট হয়ে যায়। এর পর থেকেই ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, বেশ কিছুদিন ধরে এই প্রতিষেধকের ঘাটতি হওয়ার নেপথ্যে আরও একটি কারণ প্রাকৃতিক বা আবহাওয়াজনিত বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত এই সময়টিতেই সারমেয়রা শারীরিকভাবে অস্বাভাবিক ও অসুস্থ থাকার কারণে তাদের আক্রমণের মনোভাব বেড়ে যায়। যে কোন সময় আমাদের আক্রান্ত হতে হয় নানাভাবে। এবং একই রকম ভাবে বিভিন্ন সরীসৃপরা (সাপ) ঠান্ডা জায়গা খোঁজের কারণে যখন মাটির তলা থেকে বা জল থেকে বেরিয়ে আসে তখনই সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয় সাপের কামড়ে। এর ফলে এই ধরণের প্রতিষেধকের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায় আরও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *