আনন্দপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লো সহপাঠী
বেস্ট কলকাতা নিউজ : আনন্দপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় এবার ধরা পড়ল তাঁর এক সহপাঠী। চয়ন বিশ্বাস নামে ওই বি-টেক পড়ুয়াকে রাতে আনন্দপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে থানা। অভিযোগ, চয়নের ফ্ল্যাটেই ধর্ষণের ওই ঘটনাটি ঘটে। ধর্ষণে অভিযুক্ত সিনিয়র ছাত্র কৌশিক মণ্ডলের বিরুদ্ধে যাতে তরুণী থানায় অভিযোগ না করেন, সেজন্য ভয় দেখায় চয়ন। এমনটাই দাবি নির্যাতিতার। গত নভেম্বরে ওই তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। তার ভিত্তিতে কেস রুজু করে তদন্ত শুরু করে আনন্দপুর থানা। তদন্তে উঠে আসে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ধর্ষণের শিকার হন আনন্দপুর এলাকার একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওই পড়ুয়া। অভিযুক্ত ছাত্র কৌশিক মণ্ডলের সঙ্গে তরুণীর পরিচয় হয়েছিল চয়ন নামে এক কমন ফ্রেন্ডের মাধ্যমে।

তরুণী পুলিশকে জানান, সহপাঠী চয়ন তাঁকে ডেকে পাঠায় তার ফ্ল্যাটে। বলা হয় একটি পার্টি হবে। চয়নের ডাকে সেখানে আসে কৌশিক। তখনও অন্যরা কেউ আসেননি। মাংস আনতে যাচ্ছি বলে চয়ন বেরিয়ে যায়। ঘরে একাই ছিল ওই তরুণী ও কৌশিক। অভিযোগ, এই সুযোগে ওই বি-টেক পড়ুয়া তরুণীকে ধর্ষণ করে কৌশিক। এরপর ফ্ল্যাটে ফিরে আসে চয়ন। গোটা ঘটনা জানার পর ওই তরুণীকে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু ওই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া বেঁকে বসায়, ভয় দেখাতে শুরু করে চয়ন। তাঁকে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করলে সমস্ত কিছু ভাইরাল করে দেওয়া হবে। তাঁকে এও জানানো হয় সমস্ত কিছু গোপন ক্যামেরায় রেকর্ড করা হয়েছে। তাই পুলিশে অভিযোগ করলে তরুণীর বড় ক্ষতি হবে।
এদিকে চয়নের লাগাতার হুমকি ও ভয় দেখানোর কারণেই ইচ্ছে থাকলেও, দু’বছর ধরে অভিযোগ জানাতে পারেননি বলে পুলিশকে তরুণী জানিয়েছেন। চয়ন ঘটনার বিষয়ে জানতেন, বিষয়টি সামনে আসার পরই থানার অফিসাররা চয়নের ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। যদিও তার কাছে ক্যামেরা পাওয়া যায়নি। এদিকে ধৃত চয়ন জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে কৌশিক যে তার সহপাঠিনীকে ধর্ষণ করেছে, তা সে জানত। ঘটনা যাতে ওই তরুণী প্রকাশ্যে না আনেন, তারজন্য সে ভয়ও দেখিয়েছে।

