সাত টন কয়লা সহ আটক হল একটি লরি, ফের কি জেলার উপর দিয়ে চলছে অবৈধ কয়লা পাচার? উঠছে প্রশ্ন
বেস্ট কলকাতা নিউজ : বীরভূম জেলায় কয়লা পাচার নতুন কিছু নয়। সাম্প্রতিককালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আতসকাচের তলায় বারেবারে উঠে এসেছে এই জেলার নাম। সেই আবহেই ঝাড়খণ্ড সীমানা পেরিয়ে বাংলায় ঢোকার পথে ফের বিপুল পরিমাণ অবৈধ কয়লা আটক করল কাঁকরতলা থানার পুলিশ। গাড়ি ও কয়লা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ চালক ও গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার রাতে গোপন সূত্রে খবর আসে, একটি ট্রাকে করে ঝাড়খণ্ড থেকে বিপুল পরিমাণ কয়লা খয়রাশোল ব্লকের কাঁকরতলা এলাকা দিয়ে ঢুকছে। খবর পাওয়ামাত্রই কাঁকরতলা থানার ওসি মহম্মদ সাকিবের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঝাড়খণ্ড লাগোয়া চন্দ্রবাদ এলাকার নাকা চেকিং পোস্টে তল্লাশি শুরু করে। পুলিশি তৎপরতা দেখে আগেভাগেই সতর্ক হয়ে যায় পাচারকারীরা। নাকা পয়েন্টের কিছুটা দূরেই কয়লা বোঝাই গাড়িটি রেখে অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায় পাচারকারীরা। পরে পুলিশ গিয়ে গাড়িটির ত্রিপল সরাতেই বেরিয়ে আসে টনটন কয়লা।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই ট্রাকে প্রায় সাত টন অবৈধ কয়লা ছিল। গাড়ি ও কয়লা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ চালক ও গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ঝাড়খণ্ডের ঠিক কোন এলাকা থেকে এই কয়লা আসছিল এবং বীরভূমের কোথায় তা পাচারের ছক ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এই চক্রের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য পাচারকারী দলের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বীরভূমের কয়লা, বালি কিংবা গোরু পাচার নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে সিবিআই এবং ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি অত্যন্ত সক্রিয়। এর আগে পাচার-কাণ্ডে জেলার একাধিক প্রভাবশালী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের নাম জড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় নজরদারি এবং ধরপাকড় চললেও চোরাপথে কয়লার কারবার এখনও পুরোপুরি যে থামেনি, তা প্রমাণ করল।

