ভোটের আগেই রাজ্যে উদ্ধার ৩৬ টি আগ্নেয়াস্ত্র, মালদায় গ্রেফতার হল ১৬ জন কারবারি
বেস্ট কলকাতা নিউজ : মালদায় কি এখন থেকেই নির্বাচনের ব্যবসা শুরু হয়ে গেল? একের পর এক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সেই প্রশ্নই উঠে আসছে জেলায়৷ পাঁচটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২৪ রাউন্ড কার্তুজ নিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে ঝাড়খণ্ডের এক অস্ত্র কারবারি৷ এই নিয়ে চলতি জানুয়ারি মাসে জেলায় মোট ৩৬ টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭৪ রাউন্ড কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করেছে জেলা পুলিশ৷ পুলিশ মহলেরই একটি মহলের আশঙ্কা, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে ততই বাড়বে আগ্নেয়াস্ত্র আমদানি৷ তাই এখন থেকেই কড়া নজরদারি শুরু করেছে জেলা পুলিশ৷ বুধবার কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের চর বাবুপুর গ্রামের গঙ্গা থেকে পাঁচটি স্বয়ংক্রিয় ৭ মিলিমিটার পিস্তল ও ২১ রাউন্ড কার্তুজ-সহ এক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশের বিশেষ দল৷

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত আগ্নেয়াস্ত্র কারবারির নাম সাব্বির আলম৷ ২১ বছর বয়সী সাব্বিরের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার রাধানগর থানার অন্তর্গত রাজ্জাকটোলা গ্রামে৷ তবে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে গিয়েছে সাব্বিরের দুই সঙ্গী৷ এদিকে পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের কাছে খবর এসেছিল, ঝাড়খণ্ড থেকে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র মালদায় ঢোকানো হচ্ছে৷ সেই তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশের স্পেশাল টিম চর বাবুপুর গ্রামে জাল পাতে৷ পুলিশকর্মীরা মাঝির ছদ্মবেশে নৌকায় তৈরি ছিলেন৷ তাঁরাই ঝাড়খণ্ড থেকে আসা একটি নৌকা থেকে এক যুবককে আটক করেন৷ ওই নৌকায় আরও দু’জন ছিল৷ তারা সুযোগ বুঝে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়৷ আটক যুবকের কাছ থেকে পাঁচটি সাত মিলিমিটার পিস্তল, পাঁচটি ম্যাগাজিন ও ২৪ রাউন্ড কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷ তার নাম সাব্বির আলম৷ সে ঝাড়খণ্ডের গঙ্গা সংলগ্ন রাজ্জাকটোলার বাসিন্দা৷”
পুলিশ সুপার আরও বলেন, “অস্ত্রগুলি কোথায় তৈরি, কোথায় থেকে আসছিল, কোথায় যাচ্ছিল সে সব আমরা তদন্ত করে দেখব৷ পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে ধৃতকে আগামিকাল জেলা আদালতে পেশ করা হবে৷ প্রাথমিক জেরায় আমরা পলাতক দু’জনকেও চিহ্নিত করা গিয়েছে৷ তাদের নাম আমরা পেয়েছি৷ তাদের সন্ধানে আমাদের তল্লাশি জারি রয়েছে৷

