রেস্তরাঁয় মাংস-বিভ্রাট, ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের অভিনেতার, তুমুল বিক্ষোভ পার্ক স্ট্রিটে
পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁয় মাংস বিভ্রাটের ঘটনায় ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন বামপন্থী অভিনেতা জয়রাজ ভট্টাচার্য । ইতিমধ্যেই পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি । দ্রুত ওই ইনফ্লুয়েন্সার ও তাঁর সহযোগীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন অভিনেতা । রেস্তরাঁ কর্মীর মুক্তির দাবিতে পার্ক স্ট্রিট থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় এপিডিআর ৷
পুলিশের কাছে দু’পাতার লিখিত অভিযোগে জয়রাজ ভট্টাচার্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “অভিনেতা ইনফ্লুয়েন্সার উস্কানিমূলক বিষয়বস্তু ষড়যন্ত্র করে প্রচার করে সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করল । জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার করা হয়েছে । কারণ, ওই রেস্তরাঁটি অন্যান্য খাবারের সঙ্গে বিফ স্টেকের জন্য বিখ্যাত । স্পষ্টতই, টেবিলে পরিবেশিত মাংসের খাবারের ধরন নিয়ে পরবর্তীতে মতবিরোধ দেখা দেয় । রেস্তরাঁর ব্যবস্থাপনার মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ না-রেখে বা কোনও আইনি প্রতিকার গ্রহণ না-করে, সচেতনভাবে ঘটনাটি রেকর্ড করে তাৎক্ষণিকভাবে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচার করা হয়েছে ।”

তিনি আরও বলেন, “উক্ত ভিডিয়োতে, ইনফ্লুয়েন্সার অভিযোগ করার সময়, তিনি বারবার এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় তুলে ধরেন ৷ এইভাবে বর্ণনাটি একটি বিতর্কিত পরিষেবা বিষয় হিসাবে নয় বরং ধর্মীয় অপরাধের একটি কাজ হিসাবে তৈরি করা হয়েছিল, রেস্তরাঁ এবং এর কর্মীদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ও টার্গেট করে অন্যায়ের অভিযোগ আনা হয়েছিল । ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ঘটনাকে এভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল । যা শান্তি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে ।”
এই ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী । তিনি বলেন, “অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা । সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতির উদ্দেশ্যে ব্লগার ইউটিউবারদের ব্যবহার করা হচ্ছে । এক ঘণ্টা ধরে মাংস খেয়ে তারপরে রেস্তরাঁর কর্মীর ধর্ম পরিচয় নিয়ে প্রচার করতে নামতে হল ! আরও উদ্বেগজনক হল, এরাজ্যের পুলিশ ওই ইউটিউবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না-নিয়ে গরিব রেস্তরাঁ কর্মীকে গ্রেফতার করল !”

