লোকসভার স্পিকারকে সরাতে নোটিশ কংগ্রেসের, তৃণমূলের সই না-করার কারণ ব্যাখ্যা করলেন অভিষেক
বেস্ট কলকাতা নিউজ : প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল আগেই ৷ এবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করতে অবশেষে উদ্যোগ নিল বিরোধী শিবির ৷ আজ সকালে প্রস্তাব আনতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন কংগ্রেস-সহ কয়েকটি বিরোধী দলের সাংসদরা ৷ তাতে সই করেননি তৃণমূল সাংসদরা ৷ সাংসদরা কেন সই করেননি সে কথা জানিয়েছেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ এদিকে নোটিশে কংগ্রেস, ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টি-সহ আরও কয়েকটি বিরোধী দলের ১২০ জন সাংসদ সই করেছেন বলে জানিয়েছেন লোকসভায় হাত শিবিরের উপ-দলনেতা গৌরব গগৈ ৷ জানা গিয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ৯৪ সি ধারায় এই প্রস্তাবটি আনা হয়েছে ৷ তাতে স্পিকারের কয়েকটি মন্তব্য এবং আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে ৷
নোটিশে কী আছে ? বিরোধী সাংসদরা লিখেছেন, “অধিবেশন কক্ষে স্পিকার যে ধরনের আচরণ করেন এবং যে সমস্ত ভাষার ব্যবহার করেন তা সংবিধানের পরিপন্থী ৷ সরাসরি মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন বিষয় নিয়ে সংসদে আমরা সরব হতে চেয়েছিলাম ৷ কিন্তু স্পিকার আমাদের সেই অনুমতিটুকু দেননি ৷ তাঁর আচরণে আমরা ব্যথিত ৷” লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধিকে রাষ্ট্রপতির সম্ভাষণের উপর বক্তব্য পেশ করতে না দেওয়ায় প্রতিবাদে সরব হন কংগ্রেস সাংসদরা ৷ তার জন্য 8 সাংসদকে চলতি অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয় ৷ এই বিষয়টিরও প্রতিবাদ করা হয়েছে ৷

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে সরাসরি সমর্থন জানালেও এখনই সেই পথে হাঁটতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার দিল্লিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, স্পিকারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। তড়িঘড়ি অনাস্থা না এনে আগে চিঠি লিখে নির্দিষ্ট ৪টি পয়েন্ট নিয়ে স্পিকারের জবাব চাওয়া উচিত। তৃণমূলের প্রস্তাব মেনে 3 দিনের সময়সীমার পর কোনও ইতিবাচক সাড়া না মিললে শুক্রবারই সেই প্রস্তাবে সই করবেন দলের 28 জন সাংসদ।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, “স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে তৃণমূলের কোনও সমস্যা নেই। আমাদের সব সাংসদই সই করবেন। কিন্তু তার আগে আমরা চাই ইন্ডিয়া শিবিরের শরিকরা একত্রিত হয়ে স্পিকারকে একটি চিঠি লিখুক।” তিনি জানান, বিরোধীদের মূল আপত্তির ৪ টি নির্দিষ্ট কারণ চিঠিতে উল্লেখ করা উচিত। বিশেষত যে ৮ জন কংগ্রেস সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন জানানো প্রয়োজন। স্পিকারকে ২ থেকে ৩ দিন সময় দেওয়া হোক। তিনি যদি কোনও সদর্থক পদক্ষেপ না করেন, তবেই শুক্রবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অভিষেক অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার চায় না সংসদ সুষ্ঠুভাবে চলুক। তাঁর প্রশ্ন, “গতকাল দুপুর ২ টো থেকে মঙ্গলবার বেলা ১ ১ টা পর্যন্ত সভা মূলতবি রাখা হয়েছে। যদি সংসদ চালানোই লক্ষ্য হয়, তবে কেন এত দীর্ঘ সময়ের জন্য অধিবেশন স্থগিত রাখা হচ্ছে?” অভিষেকের দাবি, বিরোধীরা কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চায়। সাধারণ মানুষ তাঁদের কথা বলার জন্য সংসদে পাঠিয়েছেন, কিন্তু সরকার জিরো আওয়ার বা প্রশ্নোত্তরের সময়টুকু দিতে চাইছে না।বাজেট আলোচনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতার কটাক্ষ, “বিজেপি ভয় পাচ্ছে। এবারের বাজেট নিয়ে বিরোধীরা যে কঠোর সমালোচনা করবে, তা সামলানোর ক্ষমতা সরকারের নেই। নিজেদের দুর্বলতা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাঁরা আলোচনা এড়িয়ে অধিবেশন স্থগিত রাখছেন।” অভিষেক আরও যোগ করেন, স্পিকার যদি নিরপেক্ষভাবে বাজেট আলোচনা শুরু করেন, তবে তৃণমূলের কোনও আপত্তি নেই।মোদীর সরকারের সঙ্গে তাঁদের ফারাক বোঝাতে গিয়ে অভিষেক এদিন বলেন, “কেউ ভুল করলে আমরা তাঁকে সংশোধনের সুযোগ দিতে চাই। এটাই তৃণমূলের নীতি। আমরা যদি তা না করি, তবে আমাদের সঙ্গে মোদি সরকার বা বিজেপির তফাত কী থাকল?

