ভালো বাংলা ছবি আর দর্শকের অভাবে বন্ধ হল শহর কলকাতার একাধিক সিনেমা হল, জট কাটবে কবে? শুরু এক চরম অনিশ্চয়তা

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : বাংলা সিনেমার পাশে থাকতে গিয়ে কি বিপাকে পড়েছেন হল মালিকরা ? দর্শক ও সিনেমার অভাবে, একে একে বন্ধ হচ্ছে সিঙ্গল স্ক্রিনগুলি ৷ হঠাৎ বন্ধ প্রিয়া সিনেমা আর বিনোদিনী থিয়েটার। একই অবস্থা নবীনার। বুধবার থেকেই বন্ধ প্রিয়া। আর তার আগে মঙ্গলবার থেকেই বন্ধ বিনোদিনী থিয়েটার। সিনেমা হল মালিকদের বক্তব্য, নতুন বাংলা ছবির অভাব এবং সাম্প্রতিককালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলি দেখতে আশানুরূপ দর্শক না আসার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। দাবি, ফেব্রুয়ারি মাসে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনও বাংলা ছবি মুক্তি পায়নি। প্রেক্ষাগৃহে চলছিল ‘মন মানে না’ এবং ‘খাঁচা’। কিন্তু এই দুই ছবির একটিও দর্শক টানতে না পারায় বেশ সমস্যায় পড়েন হল মালিকরা। অজন্তা সিনেমা হলের তরফে শতদীপ সাহাও বলেন এই একই কথা। তিনি বলেন, “মন মানে না ভালো চলেনি। মানুষ আসেনি দেখতে।”

বেহালার অশোকা সিনেমা হলের তরফে প্রবীর দাস বলেন, “অশোকা খোলা আছে। তবে, যে ছবি দু’টি চলছে তাতে লোক নেই। তাই এক প্রকার বন্ধই বলা যায়। ছবি ভালো না হলে লোক আসবে কেন? তার উপরে বাংলা ছবি নেই। সবাই ছুটির মরশুমে ছবি আনার জন্য মারামারি করছে। ফলে বাকি সময়ে আর ভালো ছবি নেই। তার ফলে হল ফাঁকা যাচ্ছে। একই সপ্তাহে সব ছবি যদি আসে তা হলে না পায় ভালো শো, না পায় হল। তাতে বাকি সময়ে এরকম অবস্থা তো হবেই।”

বিনোদিনী থিয়েটারের মালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘মন মানে না’ দেখতে দর্শক হলে ভিড় জমায়নি। তবে, সেইসময় ‘প্রজাপতি 2’ও চলছিল বটে, কিন্তু দর্শক কমে গিয়েছিল। সিনেমা হল কোনও দাতব্য চিকিৎসালয় নয়। গত সপ্তাহে যে দুটি হিন্দি ছবি মুক্তি পেয়েছিল, সেগুলিও বিনোদিনী পায়নি, কারণ সীমিত স্ক্রিনিং ছিল। বাংলা ছবি চলুক। কিন্তু তার জন্য তো দর্শক থাকতে হবে।

ওদিকে প্রিয়া সিনেমা হলের মালিকের দাবি, এখন লাভের থেকে লোকসানই বেশি। সারাদিনে টিকিট বিক্রি করে ১০ হাজার টাকাও উঠছে না, অথচ প্রতিদিন বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন এবং এসি চালানোর খরচ মিলিয়ে নয়নয় করে 5 হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ‘মন মানে না’ সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। দর্শক আসেননি। হিন্দি ছবির অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়, ‘রোমিও’ও দর্শক টানতে পারেনি। এই মুহূর্তে নতুন কোনও ছবিও মুক্তি পাচ্ছে না। এই আয়ের উপর নির্ভর করে হল চালিয়ে যাওয়া মানে আরও বড় লোকসানের মুখে পড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *