কোনো অগ্রগতি নেই শিলাবতী নদীর উপর সেতু তৈরির কাজে , ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে এলাকার মানুষের

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের কদমতলায় শিলাবতী নদীর উপর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত স্টিল ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগে খুশির হাওয়া বইলেও কাজের ‘ধীর গতি’ নিয়ে এবার তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বান্দিপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে ওই ব্রিজটি তৈরি শুরু হলেও সে অর্থে কাজের কোনও গতি নেই। ফলে কবে ব্রিজ তৈরির কাজ শেষ হবে তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।

ওই গ্রামপঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক স্বর্ণগোপাল মালস ব্রিজ তৈরির বিষয়ে ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ব্রিজটি তৈরি করতে প্রায় ৩২-৩৫ লক্ষ টাকা খরচ হবে। কিন্তু গ্রামপঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিল থেকে একসঙ্গে এত টাকা বের করতে সমস্যা হচ্ছে। তবুও আমরা বর্ষার আগে ব্রিজ তৈরির কাজটি শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছি। চন্দ্রকোণা-১ এবং চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের বাসিন্দাদের নদী পারাপারের জন্য কদমতলায় দীর্ঘদিন ধরেই একটি কাঠের সেতু ছিল। ১৯৯৮-’৯৯ সালে তৈরি হওয়া কাঠের সেতুটি কয়েক বছর আগেই নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। ১২-১৪টি গ্রামের বেশ কয়েক হাজার মানুষ ওই সেতুর উপর নির্ভরশীল।

মূলত শিলাবতী নদীর উপর সংযোগকারী ওই সেতু দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হত গ্রামবাসীদের। কারণ, স্কুল পড়ুয়া, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য ওই সেতুই একমাত্র ভরসা। কাঠের পাতগুলো একের পর এক ভেঙে পড়লেও কোনও মেরামতের উদ্যোগ ছিল না প্রশাসনের। এনিয়ে এলাকায় বহু আন্দোলনও হয়েছে।

এদিকে দুই পারের বাসিন্দারা বলেন, পরিশেষে মাস পাঁচেক আগে একই জায়গায় নতুন করে একটি সেতু তৈরির ছাড়পত্র মিললেও খুশি নয় স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা সুশান্ত মণ্ডল, রবিশঙ্কর পান প্রমুখ বলেন, আমাদের দাবি ছিল, সেতুটি কংক্রিটের হোক। কিন্তু তা না করে লোহার বিম দিয়ে ফের পাটাতন দিয়েই করা হচ্ছে। সেটাও মেনে নিয়েছি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিন্তু ব্রিজটি যে গতিতে তৈরি হচ্ছে তা কবে শেষ হবে তার কোনও ঠিক নেই। সেতু নির্মাণের গতি নিয়ে প্রসঙ্গে গ্রামপঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানত তহবিলের অভাবেই বর্তমানে কাজ কিছুটা আটকে রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ হাতে না আসায় ঠিকাদার সংস্থা কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *