তিলপাড়া ব‌্যারেজের অস্থায়ী কজওয়েতে টোল আদায়ের নামে কোটি কোটি টাকা লুট, শুরু হল সংস্কার , বন্ধ থাকবে যান চলাচল

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা নেই। নদীগর্ভে স্রেফ গায়ের জোরে চলছিল এক সমান্তরাল ‘লুটের কারবার’। তিলপাড়া জলাধারের ‘স্বাস্থ্যহানি’কে হাতিয়ার করে ময়ূরাক্ষী নদীর উপর তৈরি হয়েছিল অস্থায়ী কজওয়ে। সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে সেই কজওয়ে থেকে আদায় করা হচ্ছে ‘টোল’। সেই টাকার এক আনাও সরকারি কোষাগারে জমা না পড়ে সরাসরি চলে যাচ্ছে জেলার প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী ও তৃণমূল নেতাদের পকেটে। এবার সেই ‘সিন্ডিকেট’ বন্ধ হতে চলেছে বলে দাবি প্রশাসনের। বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন, আজ, বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হচ্ছে সেতু সংস্কারের কাজ। তারজন্য আগামী ৫ জুন পর্যন্ত সেতুর উপর দিয়ে সমস্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে। যদিও প্রশ্ন উঠছে, এতকাল কোন অদৃশ্য হাতের ইশারায় থমকে ছিল এই জরুরি কাজ?

ঘটনার সূত্রপাত গত আগস্টে। তিলপাড়া জলাধারের জলবিভাজিকায় ফাটল দেখা দেওয়ায় প্রশাসনের তরফে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে সরাসরি প্রভাব পড়ে পাচামির পাথর শিল্পে। ট্রাকগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছিল। যার ফলে পরিবহণ খরচ বাড়ছিল পাল্লা দিয়ে। এই সমস্যার সমাধান করতেই ময়ূরাক্ষী নদীর উপর এই বিকল্প কজওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব দেন ট্রাক ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেই প্রস্তাবের আড়ালে যে দুর্নীতির পাহাড় লুকানো ছিল তা এখন প্রকাশ্যে। স্থানীয় সূত্রের খবর, দীর্ঘ টালবাহানার পর জানুয়ারি মাস থেকে সেই কজওয়ে চালু হয়েছে। যদিও অভিযোগ, কোনোরকম সরকারি টেন্ডার, ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ বা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ময়ূরাক্ষীর বুক চিরে এই কজওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করেই নদীগর্ভে গড়ে ওঠা এই কজওয়ে এখন কার্যত তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের ‘টাকার খনি’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *