প্রার্থী হলেও কাটছে না আইনি জট, এক চরম অস্বস্তিতে রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মন
জলপাইগুড়ি : ভোটের ময়দানে নামার আগেই নতুন করে চাপে পড়লেন রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণ। আদালতে শুনানি হলেও আপাতত তাঁর অস্বস্তি কাটল না। কারণ, রেলের বিভাগীয় তদন্ত কমিটির সামনে তাঁকে হাজিরা দিতেই হবে বলে স্পষ্ট হয়েছে।জানা গিয়েছে, রেলে কর্মরত অবস্থায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল স্বপ্না বর্মণের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে শৃঙ্খলাভঙ্গের মামলায় বিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দিলেও, সেই ইস্তফা এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়নি বলেই সূত্রের খবর।এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি আদালতে পৌঁছয়। শুনানিতে রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্ত প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং নিয়ম মেনেই তা এগোবে। ফলে স্বপ্না বর্মণকে তদন্তের মুখোমুখি হতেই হবে। আদালতে তাঁর পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠিও পেশ করা হয়েছে।

শুনানির পর বিচারপতি রেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন, স্বপ্না বর্মণের ইস্তফাপত্র কবে গৃহীত হবে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।ফলে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই ক্রমশ বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় এখন বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকতে পারবেন কি না। আইনি জটিলতা তাঁর প্রার্থিতার ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এ প্রসঙ্গে স্বপ্না বর্মণ সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, “বিষয়টি এখন বিচারাধীন। তাই এই মুহূর্তে এ নিয়ে কিছু বলতে চাই না।” আপাতত তিনি পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার উপরই ছেড়ে দিয়েছেন।
এমনকি রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের ঠিক আগে এই পরিস্থিতি তৃণমূলের জন্যও কিছুটা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। কারণ, রাজগঞ্জে প্রার্থী তালিকা ও প্রচারের সমীকরণে এই আইনি জটিলতা নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন নজর দুই দিকেই। একদিকে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ, অন্যদিকে রেলের তদন্ত প্রক্রিয়া। এই দুইয়ের মাঝেই প্রশ্ন উঠছে, শেষ পর্যন্ত স্বপ্না বর্মণের প্রার্থিতা অটুট থাকবে, নাকি ভোটের আগে বদলে যাবে সমীকরণ।

