খামেনেই হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভের পর কাশ্মীরজুড়ে জারি হল এক কড়া বিধিনিষেধ
বেস্ট কলকাতা নিউজ : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের হত্যার প্রতিবাদে রবিবার কাশ্মীরে চরম বিক্ষোভ দেখিয়েছিল স্থানীয়রা ৷ এরপর সোমবার কাশ্মীরের কিছু অংশে সাধারণের চলাচলের উপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন । প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীনগরের লাল চকের ঘণ্টা ঘরটিও সিল করে দেওয়া হয়েছে ৷ এর চারপাশে ব্যারিকেডও তৈরি করা হয়েছে । প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে শহরজুড়ে ব্যাপক সংখ্যায় পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে । ইরানে ইজরায়েল ও মার্কিন যৌথ হামলা চলাকালীন শনিবার তেহরানে খামেনেইয়ের মৃত্যু হয় । রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও এই খবর নিশ্চিত করেছে ৷ এরপরই ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভে সামিল হয়েছে মানুষ ৷ সেই সঙ্গে শিয়া পন্থীদের মধ্যেও তীব্র শোক দেখা গিয়েছে ৷

রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ লক্ষ সিয়া অধ্যুষিত কাশ্মীরের লাল চক, সাইদা কাদাল, বুদগাঁও, বান্দিপোরা, অনন্তনাগ এবং পুলওয়ামায় বড় বিক্ষোভ হয়েছে ৷ বিক্ষোভকারীদের বুক চাপড়ে কাঁদতে দেখা গিয়েছে ৷ একই সঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল বিরোধী স্লোগানও দিতে দেখা গিয়েছে । আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে । প্রশাসন সূত্রে খবর, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঘন তার দিয়ে ব্যারিকেড করা হয়েছে ৷ উপত্যকার অন্যান্য জেলায় শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় একই রকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে ।
মুতাহিদা মজলিস-ই-উলামা (এমএমইউ) চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ উমর ফারুকের একদিনের ধর্মঘটের ডাকের পরই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে । মিরওয়াইজ বলেন, “আমরা জনগণকে ঐক্য, মর্যাদা এবং সম্পূর্ণ শান্তির সঙ্গে এই বিক্ষোভ প্রতিবাদ পালন করার আহ্বান জানাচ্ছি ৷” অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধীদল পিডিপি সভাপতি মেহবুবা মুফতি-সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলও এমএমইউ এই ধর্মঘটকে সমর্থন করেছে । এই বিষয়ে মেহবুবা মুফতি বলেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে মিরওয়াইজ উমর ফারুকের ধর্মঘটের ডাকের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন এবং সংহতি জানাচ্ছি ৷ বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য যে এটা শোকের দিন ৷ যে কোনও জায়গায় সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো সকলকে এই ঘটনা আহত করেছে ৷” শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রশাসন বেসরকারি স্কুল-সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুই দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে ।

