আনন্দপুর অগ্নিকান্ডে মৃত্যু বেড়ে হল ১৬ , নিখোঁজ একাধিক, অবশেষে গ্রেফতার হল গোডাউন মালিক

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : আগুন নেভার পর গোডাউনের ভিতর থেকে উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক নিখোঁজদের দেহ ৷ আনন্দপুরে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃত বেড়ে হল ১৬ জন ৷ তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সকলে ৷ প্রায় ২৫ -30 জন নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে । যদিও পুলিশের বক্তব্য, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রায় ১৩ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন । তবে উদ্ধার কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় মৃত ও নিখোঁজের সঠিক সংখ্যা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি ৷অন্যদিকে, ডেকোরেটার্সের গোডাউন ও মোমো তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হল মালিক গঙ্গাধর দাস ৷ ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি ৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গড়িয়া থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ ৷ আজ বুধবার গঙ্গাধরকে বারুইপুর আদালতে পেশ করা হবে বলে খবর মিলেছে ৷

এই বিষয়ে এক পুলিশ আধিকারিক জানান, আগুন লাগার ঘটনার পরই অভিযুক্ত মালিক গঙ্গাধর দাসের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল । পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি থানার পূর্ব ছড়া গ্রামের বাসিন্দা গঙ্গাধর দাস চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সাজসজ্জার (ডেকোরেটার্স) ব্যবসার সঙ্গে জড়িত । ঘটনার পর থেকে খেজুরিতে তার বাড়িটি তালা বন্ধ রয়েছে । তদন্ত চলছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷

মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরনিগমের মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, এই ঘটনার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে । প্রশাসনের আধিকারিকরা নিখোঁজদের বাড়িতে গিয়েছেন এবং পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন ।পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে । মৃতদেহ বা দেহের অংশ শনাক্ত হওয়ার পরেই সেই অর্থ হস্তান্তর করা হবে । ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য বুধবার আদালতের কাছে অনুমতি চাওয়া হবে ।

যদিও ঘটনার পরে দমকলের আধিকারিকরা স্বীকার করেন যে, গোডাউনে যথাযথ অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না ৷ অনুমোদন ছাড়াই এটি চলছিল, যার ফলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে । এই বিষয়ে ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসের একজন বরিষ্ঠ আধিকারিক বলেন, “এই ইউনিটের জন্য কোনও অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র জারি করা হয়নি ।” আরোও জানা গিয়েছে, প্রায় চার বিঘা জমির উপর অবস্থিত আনন্দপুরের ওই ইউনিটটিতে ১৫০ থেকে ২০০ জন শ্রমিক কাজ করতেন ৷ সেখানে প্লাস্টিকের ফুল, কাঠ, কাপড় ও আসবাবপত্র-সহ প্রচুর পরিমাণে অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল । যার ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *