একসঙ্গে চাকরি খোয়া গিয়েছে ছেলে-বউমার, মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হল হৃদরোগের আক্রান্ত হয়ে
বেস্ট কলকাতা নিউজ : ছেলে অর্ণব যশ ছিলেন বীরভূমের চাতরা গণেশলাল হাইস্কুলে ভূগোলের একমাত্র শিক্ষক। পুত্রবধূ চন্দ্রাণী দত্ত বীরভূমের নওয়াপাড়া হাইস্কুলের ভূগোলের শিক্ষিকা ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে একসঙ্গে চাকরি হারিয়েছেন অর্ণব, চন্দ্রানী। হতাশা গ্রাস করেছে গোটা পরিবারকে। আর সেই রায় ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই পরিবারে শোকের ছায়া। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু অর্ণবের মা মঞ্জুলা যশের। পরিবারের দাবি, ছেলে-বউমার চাকরি হারানোর খবর সহ্য করতে পারেননি মা।

পূর্ব বর্ধমানের সোনাকুড় গ্রামের বাসিন্দা অর্ণব ও চন্দ্রানী। বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে বামচাঁন্দাইপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল অসুস্থ মা-কে। শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করার পর থেকেই মানসিক যন্ত্রণায় ছিলেন বৃদ্ধা। আর বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিতে পারেননি তিনি।
মৃতার পরিবার পরিজন এই ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। সদ্য চাকরি হারানো চন্দ্রানী দত্তের দিদি ইন্দ্রাণী দত্ত বলেন, “আমার বোন দিন-রাত পড়াশোনা করে চাকরি পেয়েছে। সরকারি চাকরি যে এভাবে চলে যাবে, এটা ভাবা যায় না। সাত বছর চাকরি করার পর চাকরি বাতিল হল, এটা মানতে পারছি না। পরিবারটা চলবে কীভাবে!” অর্ণব-চন্দ্রানীর মনের অবস্থা এমনিতেই ভাল নয়, তার উপর মায়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পূর্ব বর্ধমান জেলায় চাকরি বাতিল হয়েছে ১০২৫ জনের। এর মধ্যে ৭৫০ জন শিক্ষক শিক্ষিকা, আর ২৭৫ জন অশিক্ষক কর্মী। এর মধ্যে গ্রুপ ডি ও ক্লার্কও আছে।