এক ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিক নজির, গঙ্গাসাগর মেলায়, এই প্রথমবার তৃতীয় লিঙ্গের সাধুদের আখড়া হয়ে উঠলো গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গমস্থল
বেস্ট কলকাতা নিউজ : এবছর এক ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী দৃশ্যের সাক্ষী গঙ্গাসাগর মেলা । এই প্রথমবার তৃতীয় লিঙ্গের নাগা সন্ন্যাসীদের ভিড় পুণ্যার্থী ও সাধু সমাজের নজর কেড়েছে । মকর সংক্রান্তির পবিত্র তিথিতে গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গমস্থলে তাঁরাও পুণ্যস্নানের পাশাপাশি ধর্মীয় আচার পালন করেন ৷ যা গঙ্গাসাগর মেলার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করল । ভস্ম মাখা দেহ, জটা বাঁধা চুল ও শিব ভক্তির প্রতীক নিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের নাগা সন্ন্যাসীরা বেলাভূমিতে উপস্থিত হন । তাঁদের শৃঙ্খলাবদ্ধ আচরণ, কঠোর তপস্যা ও নির্লিপ্ত জীবনযাপন বহু পুণ্যার্থীর কৌতূহল ও শ্রদ্ধা অর্জন করে । অনেক পুণ্যার্থী তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন, আশীর্বাদ নেন এবং এই দৃশ্যকে সমাজের পরিবর্তিত মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে দেখেন ।

এদিকে আখড়া সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সন্ন্যাস জীবনে যুক্ত থাকলেও গঙ্গাসাগর মেলায় তৃতীয় লিঙ্গের সন্ন্যাসীদের সংগঠিত ও প্রকাশ্য উপস্থিতি এই প্রথম । সনাতন ধর্মাচারের মধ্যে সকলের জন্য সমান অধিকার ও আধ্যাত্মিক পথের উন্মুক্ততা এই বার্তাই যেন তাঁদের উপস্থিতির মাধ্যমে উঠে এসেছে । গঙ্গাসাগর মেলা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের উৎসব নয়, সামাজিক পরিবর্তন ও মানবিক মূল্যবোধেরও প্রতীক । তৃতীয় লিঙ্গের নাগা সন্ন্যাসীদের এই ঐতিহাসিক উপস্থিতি সেই বার্তাকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। গঙ্গাসাগরে এই প্রথম বার আখড়া পেয়েছেন বৃহন্নলা সাধুরা। তৃতীয় লিঙ্গের সাধুদের বিশেষ আখড়া দেখতে এমনকি উপচে পড়ছে ভক্তদের ঢল । এতদিন মূলত গঙ্গাসাগর মেলায় তাঁরা আলাদা আলাদা আসতেন । নিজস্ব কোনও আখড়াও ছিল না । তবে এবার অন্য সাধুদের সহযোগিতায় কিন্নর সাধুরাও গঙ্গাসাগরে আখড়া পেয়েছেন । মোট ১২ জন কিন্নর সাধু এসেছেন জুনা আখড়ায় ।
এই বিষয়ে জুনা আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর ডক্টর স্বামী বৈষ্ণবী গিরি বলেন, “সনাতন ধর্মের পতাকা আবারও বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠা করার সময় এসে গিয়েছে । আমরা তৃতীয় লিঙ্গের নাগা সন্ন্যাসিনীরা প্রস্তুত রয়েছি । যদি আমাদের অনুমতি আসে তাহলে সনাতনের জন্য জীবন দিতেও আমরা রাজি রয়েছি । সম্প্রতি, বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশে সনাতনীদের উপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই ৷ পাশাপাশি প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে ।”

