ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ভারতীয় রুপি! টানা ২ দিন ডলারের তুলনায় বাড়ল টাকার দর
বেস্ট কলকাতা নিউজ : সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালের একেবারে শেষ লগ্নে এসে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ভারতীয় রুপির দর তার সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে! ডিসেম্বরের ১৫ তারিখে এক ডলারে ৯০ টাকা ৭৫ পয়সা হয়ে যায় ভারতীয় রুপি৷ সেই পরিস্থিতি থেকে ক্রমশ ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রুপি৷ মুদ্রা বাজারে প্রায়ই মার্কিন ডলারের আধিপত্য থাকে৷ কিন্তু বুধবার ডলারের তুলনায় শক্তি বাড়ল ভারতীয় মুদ্রার। বুধবার মুদ্রা বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনে রুপির দামে শক্তিশালী উত্থান দেখা গিয়েছে। মঙ্গলবার থেকে ভারতীয় মুদ্রার ঊর্ধ্বমুখী গতি অব্যাহত রয়েছে৷ বুধবার রুপির দাম মার্কিন ডলারের তুলনায় তার আগের দিনের দরের তুলনায় ৩১ পয়সা বেড়ে ৮৯ টাকা ৮৭ পয়সায় বন্ধ হয়েছে। গত সোমবার পর্যন্ত টানা চারদিন মার্কিন মুদ্রার তুলনায় ভারতীয় রুপির দর পড়েছে৷
এই প্রসঙ্গে বাজার পর্যবেক্ষকদের বিশ্বাস, মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার এই শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের পিছনে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের একটি পদক্ষেপ কার্যকর হয়েছে। বুধবার যখন মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলার ৯০ .২৩ রুপির স্তরে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করছিল, তখন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ডলার বিক্রি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানা গিয়েছে।

ফিনরেক্স ট্রেজারি অ্যাডভাইজার্সের অনিল কুমার বানসালির মতে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই পদক্ষেপ বাজারের কাছে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, তারা একতরফাভাবে রুপির পতন দেখতে পারবে না। তাছাড়া, বিশ্বব্যাপী ভারতের জন্য সুখবর ছিল। আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম (ব্রেন্ট ক্রুড) প্রতি ব্যারেলে ৬০ .১০ ডলারে নেমে এসেছে। ভারত তার তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানি করে, তাই তেলের দাম কম থাকায় রুপির শক্তি বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
বুধবার মুদ্রা বাজারে ভারতীয় মুদ্রার হাল কিছুটা চাঙ্গা হলেও দেশীয় শেয়ার বাজারে পরিস্থিতি ছিল হতাশাজনক। এটি একটি আকর্ষণীয় বাজারের বিরোধিতা। রুপির শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন হওয়া সত্ত্বেও সেনসেক্স এবং নিফটি সূচক এদিন নিম্নমুখী ছিল। সেনসেক্স ১০২.২০ পয়েন্ট কমে ৮৪ ,৯৬১ .১৪ -এর স্তরে এবং নিফটি ৩৭ .৯৫ পয়েন্ট কমে ২৬ ,১৪০ .৭৫ -এর স্তরে বন্ধ হয়। এর পেছনে বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিক্রি একটি বড় কারণ। কারণ, মঙ্গলবার বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে প্রায় ১০৭ .৬৩ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা যখন টাকা তুলে নেয়, তখন মুদ্রা শক্তিশালী হলেও তা শেয়ার বাজারে চাপ সৃষ্টি করে।

