চরম দূষণে জর্জরিত দ্বারকা নদী , জল কমে যাওয়ায় তারাপীঠে বন্ধ হল আরতি

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : দ্বারকা নদে আরতি শুরুর মাধ্যমে তারাপীঠে পর্যটন পরিকাঠামোয় নতুন পালকের সংযোজন হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই দ্বারকা নদই দূষিত হয়ে পড়েছে। এই নদে জলও নেই বললেই চলে। জল ধরে রাখার জন্য চেক ড্যামের আবেদন জানানো হলেও তা বাস্তব রূপ পায়নি। পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের কাছে দ্বারকায় আরতির আকর্ষণ ধীরে ধীরে কমে এসেছিল। অবশেষে তারাপীঠে দ্বারকা নদের পাড়ে নিত্য আরতি বন্ধ হয়ে গেল।

এদিকে মন্দির কমিটির উপদেষ্টা রবি চট্টোপাধ্যায় বলেন, নদে জল নেই। দূষণ বেড়েছে। ওখানে কিছু যুবক-যুবতীর আচরণও আপত্তিজনক। দু’জন করে নিরাপত্তারক্ষী দিয়েও সেই সমস্যা মেটানো যায়নি। আধ্যাত্মিক পরিবেশ হারিয়ে যাওয়ায় আরতি দেখতে মানুষ সেভাবে আসছিলেন না। অথচ এই আরতির জন্য মাসে দু’লক্ষ টাকা করে খরচ হচ্ছিল। তাই আমরা আরতি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। পরে আবার এবিষয়ে চিন্তাভাবনা করে দেখব। তারাপীঠে মন্দির ছাড়া বেড়ানোর তেমন জায়গা না থাকায় পুণ্যার্থীদের আক্ষেপ ছিল। সেকারণে পাঁচবছর আগে টিআরডিএ’র তরফে প্রায় আট কোটি টাকা খরচে দ্বারকার পশ্চিমপাড়ে ৫০০মিটার অংশ সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। নদীর পাড় উঁচু করে ঢালাই দিয়ে বাঁধিয়ে পার্ক গড়ে তোলা হয়। টাইলস বসানো রাস্তা, নিরিবিলি বসার জায়গা ও আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

২০২৪সালে কৌশিকী অমাবস্যার দিন থেকে দ্বারকা নদের পাড়ে আরতি শুরু হয়। এতে পর্যটকদের কাছে তারাপীঠের আকর্ষণ বেড়ে যায়। বারাণসীর দশাশ্বমেধ ঘাটে বছরের ৩৬৫দিন গঙ্গা আরতি হয়। অনেকের ইচ্ছে থাকলেও বারাণসী অথবা হরিদ্বারে গিয়ে গঙ্গা আরতি দেখা সম্ভব হয়ে ওঠে না। দ্বারকার পাড়ে আরতি শুরু হওয়ায় সেই সমস্ত ভক্তরা খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু ক্রমশ দ্বারকা নদের জল কমে আসতে থাকে। তার উপর দূষণও রয়েছে। তাই কতদিন আরতি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে-তা নিয়ে টিআরডিএ’র মিটিংয়ে তৎকালীন জেলাশাসক বিধান রায়ের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন সেবাইতরা। সেসময় জেলাশাসক আশ্বাস দিয়েছিলেন, নদে সারাবছর জল ধরে রাখতে চেকড্যামের ব্যবস্থা করার বিষয়ে সেচদপ্তরের সঙ্গে কথা বলবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *