চা শিল্পের জন্য বাজেটে নেই কোনো রকম ঘোষণা , ড্যামেজ কন্ট্রোলে নির্বাচনের মুখে বাগানে এলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
বেস্ট কলকাতা নিউজ : কেন্দ্রীয় বাজেটে চা বাগান নিয়ে একটিও কথা নেই। অভিযোগ, কেন্দ্রের অধীনস্থ সংস্থার বাগানগুলিতে ন্যায্য প্রাপ্য পাচ্ছেন না চা শ্রমিকরা। জমা পড়ছে না পিএফ। ১০ বছর আগে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মাদারিহাটে এসে বন্ধ ও রুগ্ণ চা বাগান অধিগ্রহণের কথা বললেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ বাংলায় ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের মুখে উত্তরবঙ্গে এসে চা বাগানের ‘সুদিন’ ফেরার স্বপ্ন ফেরি করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতিন প্রসাদ। চা শিল্পের উন্নয়ন মোদি সরকারের কাছে অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে বলেও দাবি করতে শোনা গেল তাঁকে। যা নিয়ে তোপ দাগতে ছাড়েনি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
কোচবিহারে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানে আসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন টি বোর্ডের কর্তারা। চা বাগান ও ফ্যাক্টরি ঘুরে দেখার পর প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি চা শ্রমিকদের উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নজর আছে। চায়ে আমাদের দেশের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এখন মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি হচ্ছে। ফলে চা রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য জায়গায় পৌঁছনোর এখনই উপযুক্ত সময়। সেক্ষেত্রে কীভাবে চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় এবং রপ্তানিযোগ্য চা উৎপাদন করা যায়, তার লক্ষ্যে কাজ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। একইসঙ্গে চা শ্রমিকদের উন্নয়ন আমাদের মূল লক্ষ্য। এ ব্যাপারে কেন্দ্রের যথাযথ নজর আছে।

এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। কাঁচা পাতার উপযুক্ত দাম না পাওয়া সহ বেশকিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন তাঁরা। পরে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ক্ষুদ্র চা চাষিদের কাঁচা পাতার ন্যূনতম দাম যাতে কেজি প্রতি ৩০ টাকা করা হয়, সেব্যাপারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বলা হয়েছে। এছাড়া দিল্লিতে বারবার দরবার করা সত্ত্বেও কৃষকদের জন্য কেন্দ্রের যেসমস্ত প্রকল্প রয়েছে, সেগুলির একটিও ক্ষুদ্র চা চাষিরা পান না। এনিয়েও মন্ত্রীকে বলা হয়েছে।
এদিকে, ভোটের মুখে চা বাগানে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নতুন করে আশ্বাস দেওয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তোপ দেগে বলেন, বাংলায় ভোট এলেই কেন্দ্রের তরফে চা বাগান নিয়ে কিছু একটা আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা জানতে চাই, উত্তরের চা শ্রমিকদের উন্নয়নে কেন্দ্রের ঘোষণা করা ১ হাজার কোটি টাকার তহবিলের কী হল? ২০১৬ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে মাদারিহাটের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে বন্ধ ও রুগ্ণ চা বাগান অধিগ্রহণের কথা বলেছিলেন, তা কি আদৌও হয়েছে? ডুয়ার্সে কেন্দ্রের অধীনস্থ সংস্থার পরিচালনাধীন যে চারটি বাগান আছে, সেগুলিতে কত কোটি টাকার পিএফ বকেয়া? আগে এসব প্রশ্নের উত্তর দিক কেন্দ্রীয় সরকার, তারপর চা শ্রমিকদের নিয়ে নতুন করে কোনো ভাঁওতাবাজি দেবে। ঋতব্রতর আরও বলেন , চা বলয়ে বিজেপির পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। এটা বুঝতে পেরেই এখন বাংলায় ভোটের আগে চা বাগানে আসতে শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।

