জগন্নাথ মন্দির থেকে ইসকন, ভোগ প্রসাদ বিতরণ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলো সংশ্লিষ্ট মন্দির কর্তৃপক্ষ
বেস্ট কলকাতা নিউজ : ক্রমশ বড় আকার নিচ্ছে রান্নার গ্যাসের সঙ্কট ৷ যার প্রভাব শুধু হোটেলের হেঁশেলে এসে থামেনি । বরং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভোগের ঘরেও পড়েছে । ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধের প্রভাব এবার দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে ইসকন-সহ রাজ্যের একাধিক মন্দিরে । এদিকে সঙ্কটের জেরে ভোগ প্রসাদ দেওয়া নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসকন কলকাতা ও দিঘার জগন্নাথ মন্দির । অন্যদিকে, ভোগ বিতরণ আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাগবাজারে সারদা মায়ের বাড়ি।

কলকাতার ইসকন মন্দিরে প্রতিদিন দুপুরে ভোগ দেওয়া হত । সাধারণ ভক্ত থেকে শুরু করে আশপাশ এলাকার অফিস কর্মীরাও এখানে দুপুরের খাওয়া সারতেন । পাতে থাকত ভাত, ডাল, তরকারি-সহ বেশ কয়েকটি পদ । প্রতিদিন কমবেশি ৩০০ মানুষ ভোগ প্রসাদ খেতেন। এবার গ্যাস অমিলের জেরে মেনুতেই পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে ইসকন কর্তৃপক্ষ । জানা গিয়েছে, এখন থেকে দেওয়া হবে খিচুড়ি । যাতে তৈরি করতে অতিরিক্ত গ্যাস না খরচ হয়।এমনকি আবার অন্যদিকে দিঘার মন্দিরের দায়িত্বেও আছে ইসকন । এখানে প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার মিলিয়ে ৩০০০ ভক্তের ভোগ আয়োজন করা হয় । তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সেই সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মন্দির কমিটি । পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এখন থেকে প্রতিদিন ৭০০-৭৫০ জনের খাবারের আয়োজন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে দিঘা মন্দির ট্রাস্টের সদস্য ও ইসকন কলকাতার ভারপ্রাপ্ত রাধারমন দাস বলেন, “আমাদের মায়াপুরের মূল অফিস থেকে নির্দেশ আছে বিশ্বের যেখানে ইসকন মন্দির আছে তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় যাতে কেউ অভুক্ত অবস্থায় না থাকেন । সেই লক্ষ্যেই সন্ধ্যায় প্রতিদিন আমরা কলকাতা ইসকন থেকে প্রায় ৩০০ বেশি মানুষকে ভোগ বিতরণ করে থাকি । তবে বর্তমানে গ্যাসের সঙ্কট ভাবাচ্ছে এই বিষয়টি, কীভাবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে নাকি পরিমাণ কমাতে হবে । এটা আমাদের খুবই চিন্তার বিষয় ।” এদিকে রামকৃষ্ণ মিশনের আওতাধীন বাগবাজারে সারদা মায়ের বাড়িতেও প্রতিদিন বিনামূল্যে ভোগ খাওয়ানো হত। সেখানে আপাতত সম্পূর্ণভাবে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়ছে । এই বিষয়ে মায়ের বাড়ির ভারপ্রাপ্ত তারক মহারাজ জানিয়েছেন, “যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়াতে জ্বালানি সঙ্কট যে হবে এটা আমরা আঁচ করছিলাম । তাই সঙ্কট শুরুর মুখেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি । পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের চালু করা হবে।”

