দেশে এই প্রথম, ১৩ বছর কোমায় থাকা যুবককে নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট
বেস্ট কলকাতা নিউজ : দেশের মধ্যে প্রথমবার নিষ্কৃতিমৃত্যুর নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট ৷ ১৩ বছর ধরে কোমায় ছিলেন ৩১ বছরের যুবক হরিশ রানা ৷ কৃত্রিম যন্ত্রের সাহায্যে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল এতদিন ৷ এই নিয়ে এত বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার হরিশের জন্য নিষ্কৃতিমৃত্যুর আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তার বাবা-মা । বুধবার শীর্ষ আদালত 31 বছরের ওই যুবকের কৃত্রিম যন্ত্র খুলে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে ৷ দীর্ঘ দিন ধরে কোম্যাটোজ অবস্থায় ছিলেন হরিশ ৷ অবশেষে ‘প্যাসিভ ইউথানেশিয়া’র অনুমতি দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত ৷
‘প্যাসিভ ইউথানেসিয়া’ আদতে হল, ইচ্ছাকৃতভাবে বা কৃত্রিম উপায়ে একজন রোগীকে লাইফ সাপোর্টের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় চিকিৎসা বন্ধ করার অনুমতি ৷ এ ক্ষেত্রেও হরিশের লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহার করার অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট । নির্দেশে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ‘প্যাসিভ ইউথানেসিয়া’র মাধ্যমে তাঁর মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করা হল ৷ 2013 সালে একটি বিল্ডিংয়ের চার তলা থেকে পড়ে যান হরিশ ৷ মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি ৷ সেই সময় থেকে ১৩ বছর কোমায় ছিলেন হরিশ । কেন্দ্রীয় সরকারের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি এবং হরিশের পরিবারের পক্ষে আইনজীবী রশ্মি নন্দকুমারের বক্তব্য শোনে বেঞ্চ । পরিবারের তরফে বিচারপতিদের জানানো হয়েছিল, তারা তাঁকে (হরিশ) আর কষ্ট দিতে চায় না ।

পরিবারের বক্তব্য শুনে বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ এইমস -কে নির্দেশ দিয়েছে, হরিশকে এই মুহূর্তে প্যালিয়েটিভ কেয়ারে ভর্তি করানো হোক ৷ যাতে তাঁর লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম খুলে নেওয়া যায় । পাশাপাশি শীর্ষ আদালত নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়েছে, এইমস-কে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, উপযুক্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে এই চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে রোগীর মর্যাদা ও সম্মান সম্পূর্ণ বজায় থাকে ।
শীর্ষ আদালত এর আগে ৩১ বছরের যুবকের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল । দিল্লি এইমস-এর ডাক্তারদের একটি মেডিক্যাল বোর্ডের তরফে হরিশ রানার চিকিৎসার যাবতীয় ইতিহাস সম্বলিত একটি রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া হয় ৷ সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করেন বিচারপতিরা ৷ নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট হরিশের এই রিপোর্টকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও জানিয়েছে । এর আগে এইমস-এর মেডিকেল বোর্ড রোগীর প্রাথমিক অবস্থা পরীক্ষার পর তাঁর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছিল ৷ শীর্ষ আদালত 11 ডিসেম্বর উল্লেখ করেছিল যে, মেডিকেল বোর্ডের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী ওই যুবকের অবস্থা খুবই দুঃখজনক পরিস্থিতিতে রয়েছে ।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৩ সালের এক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, মরণাপন্ন অবস্থায় বা কোমায় থাকা রোগীর জন্য কৃত্রিম উপায়ে বাঁচিয়ে রাখার যাবতীয় উপায় বন্ধ করতে হলে বিশেষজ্ঞদের মতামতের জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করতে হবে । সেই মোতাবেক হরিশের জন্যও সেই মেডিক্যাল বোর্ড গঠন হয় ৷ আর সেই বোর্ডের রিপোর্টও শীর্ষ আদালতে পেশ করা হয়েছিল ৷

