প্রায় ৭০ বছর ধরে চলছে শিলিগুড়ির নেতাজি কেবিন, বর্তমানে নিঃশব্দ কারিগর প্রণবেন্দু বাগচীর কৃতিত্ব আজও অনস্বীকার্য
শিলিগুড়ি: প্রায় ৭০ বছর হয়ে গেল আজ চলছে বিধান মার্কেটের নেতাজি কেবিন, মন্টু বাগচীর হাত ধরে এগিয়ে গেলেও বর্তমানে প্রণবেন্দু বাগচীর কৃতিত্ব কোনভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। একার কৃতিত্বের দোকান ধরে রাখার ক্ষমতা কিভাবে রাখতে হয় সেটা কিন্তু প্রণব বাবু দেখিয়ে দিলেন। বছরের পর বছর ধরে এই পুরনো মানসিকতাই তাকে সাফল্যের চূড়ান্ত পর্যায় নিয়ে গেছে। প্রণব বাবুর সহজ সরল জীবন যাপন, ভালোভাবে কথা বলার ক্ষমতা নেতাজি কেবিনকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। নেতাজি কেবিনের কর্মচারীরা শ্যামল দীনবন্ধু এবং জিতেন প্রত্যেকেই বছরের পর বছর ধরে এখানে কাজ করে যাচ্ছেন। একটা কথা তো স্বীকার করতেই হবে ভালো ব্যবহার না থাকলে, এবং ভালো ব্যবহার না রাখলে কেউ এই জায়গায় এসে পৌঁছায় না, অথবা দোকান কেও নিয়ে যেতে পারেনা। নেতাজি কেবিনের চা মনে হয় সারা ভারতবর্ষের মধ্যেই পরিচিত। ৩০ বছর ধরে নেতাজি কেবিনে চা খেতে আসা এক ব্যক্তি জানান এই চা খেয়ে আমরা বাড়ির চা ই খাই না। এমনকি এখানকার মতো করে টোস্ট এবং ওমলেট এইভাবে কেউ বানাতে পারে না, জানালেন এখানকারই এক পুরনো খদ্দের প্রশান্ত রায়।

প্রশান্ত রায় আরো জানান প্রায় ৩০ বছরের উপরে আমি আসছি এই দোকানে কিন্তু এখানকার মতো চা পাওয়া ? এক কথায় অসম্ভব। তিনিও মেনে নিলেন প্রণব দা যেভাবে সবার সাথে মিলেমিশে থাকেন, এখন তো অনেক বড় বড় আধুনিক চায়ের দোকান হয়েছে কোন চায়ের দোকানের মালিক কে এভাবে মিশতে পারবেন? তার খদ্দেরদের সাথে , তার কর্মচারীদের সাথে। প্রণব বাবুর পাশাপাশি কৃতিত্ব তার স্ত্রী পাপিয়া বাগচী, এবং তার কন্যা দেবলীনা বাগচীরও, তারাও কোনদিন দুর্ব্যবহার করেননি তাদের কর্মচারীদের সাথে। সারা উত্তরবঙ্গ জুড়ে নেতাজি কেবিনের সুনাম আছে। শুধু উত্তরবঙ্গ নয় দক্ষিণবঙ্গেও সমান জনপ্রিয় শিলিগুড়ির এই নেতাজি কেবিন। কলকাতার অনেক খদ্দের আছেন যারা শিলিগুড়ি আসলেই নেতাজি কেবিনে চা খেতে আসবেন। তারাও জানায় এই চা কোথাও পাওয়া অসম্ভব, এদিকে প্রণবেন্দু বাগচী জানান আমি চেষ্টা করব সবার প্রশংসা মাথায় নিয়ে চলতে। তবে আমি আমার দোকানকে আপাতত পরিবর্তন করতে চাই না, ।
তিনি জানান আরো আমার বাবা-মায়ের আশীর্বাদ এবং মানুষের ভালোবাসা যদি আমার সাথে থাকে, আমার নেতাজি কেবিনে জনপ্রিয়তা সারা ভারতজুড়ে ছড়িয়ে যাবে। আমার কাছে এর চাইতে আর বড় পাওনা কিছুই থাকবে না। শুধু শিলিগুড়ি নয়, শিলিগুড়ির বাইরের মানুষও প্রণব বাবুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তারা বলেন উনার মধ্যে একটুও অহংকার নেই। একেবারেই সাধারণভাবে থাকেন উনি। আজকে আমরা এখানে আছি এতদিন ধরে, নেতাজি কেবিনে চা না খেলে আমাদের দিনটা ভালো যায় না অথবা ভালো কাটে না। আমরা সবাই, একসাথে নেতাজি কেবিনে চা খেতে আসি এবং প্রণব বাবুর সাথে গল্প করতে আসি। সত্যি উনি যেভাবে দোকানকে তুলে ধরেছেন তার জন্য কোন প্রশংসাই যথেষ্ট নয়, একের পর এক দোকান শিলিগুড়িতে খুলেছে অথচ নেতাজি কেবিনের জনপ্রিয়তাকে কেউ ছুতে পর্যন্ত পারেননি। এটাই প্রণব বাবুর কৃতিত্ব। সবাই সমানভাবে থাকবে, এটাই উনি চান। আজকে যে নেতাজি কেবিন এই জায়গায় পৌঁছে গেছে, এবং এই জায়গাকে ধরে রেখেছে, তার সিংহভাগ কৃতিত্ব প্রণব বাবুর। শুধু আধুনিক চায়ের দোকান করলেই হয় না, সাবেকিয়ানা দিয়েও চায়ের দোকানকে যে দক্ষতার শীর্ষে তোলা যায় তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলেন প্রণবেন্দু বাগচী। সত্যি কোন প্রশংসাই তার জন্য যথেষ্ট নয়। সবথেকে বড় কথা উনি নিজের স্বীকার করতে চান না , নিজের কৃতিত্বের কথা। জানান ভগবানের আশীর্বাদ, আমার বাবা-মায়ের আশীর্বাদ এবং মানুষের ভালোবাসাই আমাকে এই জায়গায় নিয়ে পৌঁছেছে।

