তিনগুণ খরচ হচ্ছিল অস্থায়ী কর্মীদের বেতন গুনতে , বিক্ষোভ অব্যাহত কৃষ্ণনগর পুরসভায়
বেস্ট কলকাতা নিউজ : বকেয়া করের পরিমাণ কয়েক কোটি। এছাড়াও বকেয়া ভাড়াও লক্ষ লক্ষ টাকা। সেই টাকা আদায় করতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে কৃষ্ণনগর পুরসভার। এই পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক অস্থায়ী কর্মীকে বেতন দিতে গিয়ে পুরসভার ভাঁড়ার শূন্য হয়ে যাচ্ছিল। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থায়ীর তুলনায় অস্থায়ী কর্মীদের বেতন দিতে প্রতি মাসে প্রায় তিনগুণ টাকা খরচ হচ্ছিল। পুরসভার স্থায়ী কর্মীদের বেতন দিতে প্রতি মাসে লাগে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা। সেই জায়গায় অস্থায়ী এবং নন-ইপিএফ স্পেশাল লেবারদের দিতে হচ্ছিল প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা। তাই নীতিগতভাবে অস্থায়ী কর্মী ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে হলেও কড়া পদক্ষেপ না করলে নাগরিক পরিষেবা দেওয়াই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার সমানে অস্থায়ী কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। কৃষ্ণনগর পুরসভার প্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, শহরবাসীকে পরিষেবা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। তারজন্য যে সমস্ত পদক্ষেপ করা দরকার, সেটা করতে হবে। তবে, নাগরিক পরিষেবা অব্যাহত আছে।

পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের হাত ধরেই অধিকাংশ অস্থায়ী কর্মী কাজ পেয়েছিলেন। সেই তালিকায় তৃণমূল নেতা ও তাঁদের আত্মীয়রাও রয়েছেন। শহরবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অস্থায়ী কর্মী পুরসভায় মৌরসিপাট্টা চালাচ্ছিল। যার মধ্যে বেশিরভাগই সাফাই কর্মী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিল। নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকায় তাঁদের অধিকাংশই কাজই করত না। কিন্তু, পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসানোর পর শহরের আবর্জনা পরিষ্কারের উপর জোর দেওয়া হয়। তারপরেই বিষয়টি সামনে আসে। কৃষ্ণনগর পুরসভার স্থায়ী, অস্থায়ী, নির্মল বন্ধু এবং নন-ইপিএফ স্পেশাল লেবার মিলিয়ে মোট ১৩২৬ জন রয়েছেন। যার মধ্যে ৮২১ জন রয়েছেন শুধুমাত্র সাফাই বিভাগে। দু’মাস আগে ৩৫০ জন কর্মীকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকায় তৃণমূলের নেতা থেকে শুরু করে তাঁদের ঘনিষ্ঠরা রয়েছেন। অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শহর তৃণমূলের কিছু নেতার মদত রয়েছে। কারণ, কাজ হারানো অস্থায়ী কর্মীদের প্রশ্নের মুখে তাঁদের পড়তে হচ্ছে।

