বিশ্ব উষ্ণায়ন-দূষণ সঙ্কটেও বাজেটে চরম উপেক্ষিত পরিবেশ, বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয় দাবি পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব উষ্ণায়নে জেরবার গোটা বিশ্ব । বাদ নেই ভারতও । পাহাড় ধস, তুষার ধস থেকে হরপা বান, মাত্রাহীন গরম বা অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি এখন সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবনে, বাস্তুতন্ত্রে । বায়ু, দূষণ, নদী দূষণ থেকে মাটি দূষণ সাধারণের জীবন যেন ওষ্ঠাগত প্রাণ । আর এই এত সঙ্কটের মাঝেও কেন্দ্রীয় বাজেটে পরিবেশ যেন অনেকটাই উপেক্ষিত ৷ বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয় বলেই দাবি করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা । ২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষের বাজেট নিয়ে পরিবেশগত নানা দিক উল্লেখ করে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী ও সৌমেন্দ্রমোহন ঘোষ মতামত দিয়েছেন৷ তাঁরা যা জানিয়েছেন, তা হল –

প্রান্তিক খাত হিসেবে দেখানো হয়েছে পরিবেশকে : বাজেটে মূল আলোকপাত করা হয়েছে জিডিপি-কেন্দ্রিক সম্প্রসারণ, পরিকাঠামো এবং বিনিয়োগের ওপর । তবে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের খরচ প্রায় অদৃশ্য । জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দূষণ, বন উজাড় এবং জলাভূমি ক্ষয়-এইসব সমস্যা সরকারের ব্যয় পরিকল্পনায় অপ্রত্যক্ষ । অর্থনীতির অঙ্ক বৃদ্ধি পেলেও প্রকৃতির অবমূল্যায়নের ফলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে ।

জলবায়ু ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি উপেক্ষা : বাজেটে জলবায়ু অভিযোজন, ক্ষুদ্র জলাভূমি সংরক্ষণ বা বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারের কোনও বড় প্রকল্পের উল্লেখ নেই । বায়ু দূষণ, জলাভূমি ধ্বংস এবং নদী দূষণ স্বাভাবিকভাবে কৃষি উৎপাদন, স্বাস্থ্য খরচ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করবে । অর্থনীতির ভাষায় বলতে গেলে, এটি হল externalities যেগুলোর খরচ ভবিষ্যতে রাষ্ট্র বহন করবে ।

পরিকাঠামো নির্মাণ বনাম বাস্তুতন্ত্র : বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর থাকলেও পরিবেশগত সীমারেখা বিবেচনা করা হয়নি । নদী, বন, জলাভূমি উপেক্ষা করে তৈরি হওয়া সড়ক, শহর সম্প্রসারণ বা শিল্পাঞ্চল ভবিষ্যতে stranded assets হতে পারে । এর মানে হল, রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্ষয়ক্ষতির খরচ শেষ পর্যন্ত জনগণ ও রাষ্ট্র বহন করবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *