ইরানের শীর্ষ নেতা খামেনেইয়ের হত্যায় নীরব কেন্দ্রীয় সরকার, সংসদে আলোচনার দাবি জানালো সোনিয়া গান্ধী

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : দু’দেশের সম্পর্ক প্রাচীন ৷ প্রায় ১০ বছর আগে ইরান সফরে গিয়ে ভারত-ইরানের সম্পর্ক নিয়ে এই মন্তব্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ অথচ সে দেশের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনেইয়ের মৃত্যুতে একটি শব্দও খরচ করেননি তিনি ৷ ‘এই নীরবতা নিরপেক্ষ নয়’- প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে এমনটাই লিখলেন কংগ্রেসের সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধি ৷ সংসদে এ প্রসঙ্গেও আলোচনাও চান রাজীব-জায়া ৷

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি এই হত্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, “একজন বিদেশি নেতাকে নিশানা করে হত্যা করা হয়েছে ৷ এই আবহে আমাদের দেশ সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিক আইনের সমর্থনে কিছুই বলেনি ৷ এর ফলে দেশের বিদেশ নীতির অভিমুখ কোন দিকে এবং তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে ৷ এই ক্ষেত্রে নীরবতা নিরপেক্ষ নয় ৷” একটি সর্বভারতীয় দৈনিকের উত্তর-সম্পাদকীয়তে খামেনেইয়ের মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধি ৷ সেটি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে কংগ্রেস, লোকসভার বিরোধী দলেতা রাহুল গান্ধি এবং অন্যরা ৷

গত ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি দু’দিনের সফরে ইজরায়েলে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ সেখানে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয় তাঁর ৷ ২৬ তারিখ তিনি দেশে ফেরেন ৷ পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ ৷ আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনেইয়ের এবং তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের ৷

ইরানের উপর ইজরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ৷ প্রধানমন্ত্রী মোদি বারবার আলোচনা ও কূটনৈতিক পথে এই সমস্যা সমাধানের বার্তা দিয়েছেন ৷ কিন্তু খামেনেই হত্যা নিয়ে তিনিও কোনও মন্তব্য করেননি ৷ এই নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি ৷ সর্বভারতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, “১ মার্চ ইরান তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা সৈয়দ আলী হোসেইনি খামেনেইয়ের হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে ৷ আগের দিন তাঁকে নিশানা করে যৌথ হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল ৷ আলোচনার মাঝপথে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতার হত্যা সমসাময়িক আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলির মধ্যে গভীর ভাঙনকে স্পষ্ট করেছে ৷”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *