চাকচিক্যই বেড়েছে সিউড়ি স্টেশনের, বাড়েনি কোনো ট্রেনের সংখ্যা, চরম ক্ষোভ যাত্রীদের মধ্যে

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : আগামী ১৪ মার্চ সিউড়ি ‘অমৃত ভারত’ স্টেশনের উদ্বোধন হতে চলেছে। ৫কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি নতুন লিফট, আধুনিক পার্কিং থেকে শুরু করে টেরাকোটা স্থাপত্যে সিউড়ি স্টেশন চত্বর সাজানো হয়েছে। তবুও সাধারণ যাত্রীদের মনে ক্ষোভের অন্ত নেই। তাঁদের প্রশ্ন, স্টেশন ভবন আধুনিক হলেও সিউড়ি থেকে ট্রেন কবে বাড়বে? বাহ্যিক চাকচিক্য থাকলেও যাত্রী পরিষেবা খুব খারাপ বলে অভিযোগ অনেকের। রেল সূত্রের খবর, উদ্বোধনের পর থেকেই যাত্রীরা স্টেশনের নতুন সুযোগ-সুবিধাগুলি ব্যবহার করতে পারবেন। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে যে পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে তা সিউড়ির মতো জেলা সদরের জন্য দরকার ছিল। কিন্তু প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ যাত্রীদের দাবি, শুধু স্টেশনের ভোলবদল করে লাভ নেই, যদি ট্রেনই না থাকে।

বর্তমানে সিউড়ি থেকে ট্রেন পরিষেবা অত্যন্ত হাতেগোনা। শিয়ালদহ বা হাওড়া যাওয়ার পর্যাপ্ত ট্রেন নেই, আবার দূরপাল্লার ট্রেনের সংযোগের ক্ষেত্রেও সিউড়ি অনেক পিছিয়ে। যদিও পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের জনসংযোগ আধিকারিক বিপ্লব বাউরি বলেন, সিউড়ি স্টেশনের এই আমূল পরিবর্তন আসলে একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। আগামী দিনে এখান থেকে ট্রেনের সংখ্যা নিশ্চিতভাবেই বাড়ানো হবে। পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গেলে আরও নতুন ট্রেন চালু করা বা স্টপেজ দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে। রেলের এই আশ্বাসে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে জেলা সদরের নিত্যযাত্রীরা।

এদিকে সিউড়ির নিত্যযাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, সিউড়ি গুরুত্বপূর্ণ জেলা সদর হওয়া সত্ত্বেও এখান থেকে উত্তরবঙ্গ বা ভিনরাজ্যে যাওয়ার সরাসরি ট্রেনের সংখ্যা নামমাত্র। স্টেশনে ঢোকার মুখে আধুনিক পার্কিং বা লিফট থাকলেও, সেই সুবিধার আসল সুফল সাধারণ মানুষ তখনই পাবেন যখন ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে। যাত্রীদের কথায়, স্টেশন দেখতে সুন্দর হল ঠিকই, কিন্তু আমাদের ট্রেন পেতে সেই অণ্ডাল অথবা সাঁইথিয়া ছোটোছুটি করতে হয়। সিউড়ি থেকে নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ কেন নীরব?

রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে, সিউড়ি স্টেশনটি বক্রেশ্বর ও তিলপাড়া জলাধারের মতো পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশদ্বার হওয়ায় এই আধুনিকীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, পর্যাপ্ত ট্রেন না থাকলে বাইরে থেকে পর্যটকরা আসবেন কীভাবে? ফলে ১৪ তারিখের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সাজসাজ রব থাকলেও মূল পরিকাঠামো অর্থাৎ ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্টপেজ বাড়ানোর দাবিই এখন সিউড়ির মানুষের কাছে প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেলের এই ‘চাকচিক্য’ আসলে কতটুকু কাজে দেবে, তা নিয়ে সন্দিহান জেলা সদরের বাসিন্দারা। সিউড়ি স্টেশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *