নোটবন্দির পর এবার গ্যাসসিলিন্ডার ! ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক প্রৌঢ়ের
বেস্ট কলকাতা নিউজ : গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন প্রৌঢ় ৷ ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্জাবের বারনালা জেলার শাহনা শহরে ৷ একদশক আগে নোটবন্দির সময় এভাবেই ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে দেখেছে দেশবাসী ৷ এই ঘটনায় প্রৌঢ়ের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের তরফে কেউ যোগাযোগ করেননি ৷ এমনকী ময়নাতদন্তও হয়নি প্রৌঢ়ের দেহের ৷ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে বন্ধ হরমুজ প্রণালী ৷ ফলে ওই সঙ্কীর্ণ জলপথ দিয়ে পণ্যবোঝাই বা জ্বালানি ট্যাঙ্কারের যাতায়াত থমকে গিয়েছে ৷ এই অবস্থায় গ্যাসের সিলিন্ডারের সরবরাহে টান পড়ায় দেশে রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক গ্যাসের প্রাপ্যতা কমেছে ৷ এই সঙ্কটে গৃহস্থরা সমস্যায় পড়েছেন ৷ সাধারণ মানুষ কিছুটা আতঙ্কে কিছুটা প্রয়োজনে গ্যাসের দোকানে লাইন দিয়ে রান্নার জ্বালানি জোগাড় করছে ৷

তেমনই এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার জোগাড় করতে গ্যাস এজেন্সিতে লাইন দিয়েছিলেন ওই ৬৬ বছরের প্রৌঢ় ৷ মৃত ব্যক্তির নাম ভূষণ কুমার মিত্তাল ৷ তিনি শাহানা গ্রামের বাসিন্দা ৷ স্থানীয় সূত্রে খবর, রান্নার এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে দোকানে লাইন দিয়েছিলেন ৷ ভোর পাঁচটায় লাইনে দাঁড়ালেও তাঁর নম্বর ছিল 25 ৷ বেশ কয়েকঘণ্টা অপেক্ষা করতে করতে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন ভূষণ কুমার এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় ৷ মৃতের ভাইপো রবীন মিত্তাল জানান, তাঁর কাকা বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে গ্যাস এজেন্সির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৷ তাঁর কথায়, “ভোর 5টা থেকে সিলিন্ডারের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন কাকা ৷ অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং ওখানেই তাঁর মৃত্যু হয় ৷ প্রশাসন বা সরকারের কোনও প্রতিনিধি কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি ৷”
ভূষণ কুমারের আত্মীয় জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয় ৷ দিন আনা দিন খাওয়া করে সংসার চলে ৷ রবীন বলেন, “আমার কাকা খুব পরিশ্রম করতেন ৷ তাঁর মৃত্যুর পর আমার কাকিমা একেবারেই একা হয়ে গেলেন ৷ তিনিও ভালো নেই ৷” স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ৷ কোনও ময়নাতদন্ত ছাড়াই প্রৌঢ়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে ৷

