গ্যাস বুকিংয়ের নামে কলকাতায় সক্রিয় সাইবার প্রতারণা চক্র ! ভুয়ো লিঙ্কে এক ক্লিক করে টাকা খোয়ালেন ১ ব্যক্তি

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : রান্নার গ্যাসের সঙ্কটের মধ্যেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে সাইবার প্রতারকরা। গ্যাস বুকিংয়ের নামে ভুয়ো লিঙ্ক পাঠিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা সামনে আসছে রাজ্যে। পুলিশ সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে এমনই এক প্রতারণার শিকার হয়েছেন সল্টলেকের এক প্রৌঢ়, যিনি প্রায় ২০ হাজার টাকা খুইয়েছেন।

সম্প্রতি রাজ্যে ‘২৫ দিনের ব্যবধানে সিলিন্ডার বুকিং’-এর নিয়ম চালু হওয়াকে হাতিয়ার করে গ্রাহকদের ফোনে ভুয়ো লিঙ্ক পাঠানো হচ্ছে। সেই লিঙ্কে ক্লিক করলে দ্রুত গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে প্রতারক চক্র।পুলিশের মতে, প্রতারণার কৌশল মূলত দুই ধরনের। প্রথমত, গ্রাহকদের ফোন করে বলা হচ্ছে, গ্যাস পাচ্ছেন না? আমাদের দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করলেই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলিন্ডার বাড়িতে পৌঁছে যাবে। দ্বিতীয়ত, অনেককে ভয় দেখানো হচ্ছে যে তাঁরা নির্ধারিত সময়ের আগে গ্যাস বুকিং করার চেষ্টা করে সরকারি নিয়ম ভেঙেছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কালোবাজারির মামলা হতে পারে। সেই ‘জরিমানা’ এড়াতে দ্রুত টাকা জমা দেওয়ার জন্য ভুয়ো লিঙ্ক পাঠানো হচ্ছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গ্রাহক ওই লিঙ্কে ক্লিক করলেই তাঁর স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হ্যাকারদের হাতে। স্ক্রিন শেয়ারিং বা ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। করোনাকালে ভ্যাকসিন বা ব্যাঙ্কের কেওয়াইসি আপডেটের নামে যেভাবে প্রতারণা চলত, বর্তমানে গ্যাস সঙ্কটকে কেন্দ্র করে ঠিক সেই পদ্ধতিই ব্যবহার করা হচ্ছে।

পুলিশের এক কর্তার কথায়, গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলি কখনও ফোনে লিঙ্ক পাঠিয়ে টাকা দাবি করে না। আতঙ্ক এবং তাড়াহুড়ো তৈরি করাই প্রতারকদের মূল লক্ষ্য। এমন কোনও ফোন বা এসএমএস এলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় বা ১০০ নম্বরে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।সাইবার বিশেষজ্ঞরা সব সময় একটাই পরামর্শ দিয়ে থাকেন, অচেনা নম্বর থেকে আসা কোনও লিঙ্কেই ক্লিক করা উচিত নয়। তাছাড়া গ্যাস বুকিং সংক্রান্ত সমস্যায় সরাসরি এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করাই নিরাপদ। পাশাপাশি ফোনে ওটিপি বা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য কাউকে না দেওয়ার বার্তা বরাবর প্রচার করে চলেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *