‘আমিও ফর্ম ফিল আপ করেছি’, বাংলায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ নিয়ে অবশেষ জয়মাল্য বাগচী নিশানা করলেন কমিশনকে
বেস্ট কলকাতা নিউজ : বিহার-সহ দেশের একাধিক রাজ্যে এসআইআর (SIR) হয়েছে। কিন্তু সেখানে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বলে কিছু ছিল না! যা নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের প্রশ্নে মুখে নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, এই ইস্যুতে কমিশন নিজের বক্তব্য থেকে সরে এসেছে বলেও কড়া পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের।
গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত একটি নতুন মামলার শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতির এজলাসে হয় এই শুনানি হয়। সওয়াল-জবাব চলাকালীন বিচারপতির মন্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হচ্ছে বিহারের থেকে আলাদা নিয়মে। বিহারের এসআইআর মামলার শুনানিতে জানানো হয়েছিল, ২০০২ এর তালিকায় যে ব্যক্তির নাম আছে, তাকে কোনও নথি দিতে হবে না। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে কমিশন কেন নিজের অবস্থান থেকে সরে গিয়েছে, তা নিয়ে এদিন প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। এক্ষেত্রে পালটা কমিশনের আইনজীবীর যুক্তি, ”২০০২ সালের তালিকায় যে ব্যক্তির নাম রয়েছে, তাকে প্রমাণ করতে হবে তিনি একই ব্যক্তি কিনা।”

আর এরপরেই কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য, এমন একজনকে আপনি বোঝাচ্ছেন, যিনি নিজেও ফর্ম ফিল আপ করেছেন। শুধু তাই নয়, ভোটদান যে শুধু অধিকার নয়, আবেগের বিষয় তাও এদিন মনে করিয়ে দেন বিচারপতি বাগচী। তিনি আরো জানান, একজন ব্যক্তি যিনি দেশে জন্মেছেন, সেই দেশে ভোটাধিকার শুধুমাত্র অধিকার নয়, আবেগের বিষয়। এমনকী এই প্রসঙ্গে বিচারপতি আরও বলেন, কোনও ব্যক্তি যদি ভোটার তালিকায় না থাকেন, তাহলে তাঁর কথা ভুলে গেলে চলবে না।
উল্লেখ্য , রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন বেশ কয়েকজন। আবেদনকারীদের দাবি, বৈধ পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকী নির্দিষ্ট কোনও কারণ না দেখিয়েই ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আবেদনকারীরা।

