প্রবল ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা, রামপুরহাটে বোরো ধান কাটা শুরু করলো এলাকার স্থানীয় চাষিরা
বেস্ট কলকাতা নিউজ : ঝড়, বৃষ্টির চরম সম্ভাবনা রয়েছে এ রাজ্যে । গত দু’দিন ধরে আকাশের মুখ ভার। তাই বোরো চাষের ক্ষতির আশঙ্কা থেকে রামপুরহাট ও সংলগ্ন এলাকায় ধান কাটতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন চাষিরা। তাঁদের দাবি, কালবৈশাখী ঝড় হলেই ধান গাছ নুইয়ে পড়বে। পাশাপাশি এই সময় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও থাকে। সঙ্গে বৃষ্টির আশঙ্কা তো রয়েছেই। তাই আতঙ্কে পাকা ধান জমিতে ফেলে না রেখে তা কাটতে মাঠে নেমে পড়েছেন তাঁরা।

চাষিরা জানান বর্তমানে বেশিরভাগ জমিতে বোরা ধান পেকে গিয়েছে। কিছু জমিতে কয়েকদিনের মধ্যে পেকে যাবে। আর এই সময় ঝড়, বৃষ্টির পূর্বাভাস যা চাষিদের উদ্বেগ মূলত বাড়িয়ে তুলেছে। চাষিদের আরও দাবি, কালবৈশাখীর ঝড় ও তার সঙ্গে বৃষ্টি হলেই পাকা ধানের সিংহভাগ ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে । সেই সঙ্গে গাছ নুইয়ে জলে ডুবে থাকলেও ক্ষতি হবে। তাই রামপুরহাট, নলহাটি, ময়ূরেশ্বর সর্বত্র চাষিরা ধান কাটতে মাঠেই নেমেছেন। বাইরে থেকে ধান কাটা ও ঝাড়াইয়ের মেশিনের আনাগোনাও বেড়েছে।
এদিকে জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বোরো চাষে বিঘা প্রতি ১১-১২ কুইন্টাল হারে ধানের ফলন হয়ে থাকে। যা আমন চাষের ফলন অপেক্ষা অনেক বেশি। আলু তুলে সেই জমিতে বহু চাষি মিনিকিট ধানের চাষ করেন। পাশাপাশি কোথাও আয়ার ছত্রিশ ও দেরাদুন ধানের চাষ হয়। অধিকাংশ জমির ধান পেকে গিয়েছে। কোথাও ধান পেকে গেলেও গাছ সবুজ হয়ে রয়েছে। এই ধান নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতেই ফি বছর চাষিদের উদ্বেগ বাড়ে। এর আগে দু’দিন বিভিন্ন প্রান্তে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। যদিও তাতে কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ঝড়, বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তার মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়েছে। ফলে গুমোট আবহাওয়ায় চাষিরা কালবৈশাখী ঝড়, বৃষ্টির আশঙ্কা করতে শুরু করেছেন । ফলে পাকা ধান জমিতে ফেলে রাখতে কেউ ঝুঁকি নিচ্ছেন না। এদিকে গতকাল সোমবার সকালে মেঘলা আকাশ থাকায় দেরিতে সূর্যের মুখ দেখা গিয়েছে। আকাশের পরিস্থিতি দেখে চাষিরা ধান কাটতে আর কালবিলম্ব করতে চান না।

