আবগারি দুর্নীতি মামলায় অবশেষে বেকসুর কেজরিওয়াল, তদন্তের নির্দেশ সিবিআইয়ের বিরুদ্ধেই, আদালতের রায়ে মুখ পুড়ল মোদি সরকারের

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর দল তথা সরকারের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল, তার সবটাই সাজানো। খোদ দিল্লি আদালত এই রায় দিয়েছে। শুক্রবার নজিরবিহীনভাবে বিজেপি এবং মোদি সরকারের মুখ পুড়িয়েছে সিবিআই। দিল্লির হাই প্রোফাইল আবগারি নীতি সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় প্রধান দুই অভিযুক্ত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল এবং প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিশোদিয়া। এছাড়াও ছিলেন ২১ জন। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং এদিন সমস্ত অভিযোগ থেকে তাঁদের মুক্তি দিয়েছেন। এই দুই জনপ্রতিনিধিকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অপরাধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধেও।

আদালত জানায় , এই মামলায় কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণই দিতে পারেনি সিবিআই। তাদের ব্যর্থতা এমন পর্যায়ে যে, সন্দেহভাজন হিসাবে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আবার সাক্ষী করা হয়েছে চার্জশিটে! সেই দু’জনের নাম এক্সাইজ কমিশনার অরভ গোপী কিষাণ ও আনন্দ তিওয়ারি। অর্থাৎ, বিরোধীরা যে অভিযোগ এতকাল করে এসেছে, রায়ের বয়ানে ঠিক সেই কথাগুলিই বলেছেন বিচারক— প্রমাণ ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে কেজরিওয়ালকে অভিযুক্ত সাজানো হয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই দিল্লি আদালতের এই রায়ের জেরে দ্বিগুণ বিক্রমে রাজনৈতিক ময়দানে ফিরে এলেন আপ সুপ্রিমো। এদিন রায় ঘোষণার পর কেজরিওয়াল কেঁদে ফেলেন। বলেন, ‘আমি আজীবন একটি বস্তুই অর্জন করেছি। সেটি হল সততা। মোদিজি এভাবে বিরোধীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ক্ষমতাসীন হতে চাইছেন কেন? ক্ষমতা থাকলে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করুন না! একজন প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছেন এর থেকে দুর্ভাগ্যজনক কিছু হয় না।’ এই রায়কে হাতিয়ার করে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘সত্যমেব জয়তে! এখনও সময় আছে শিক্ষা নাও বিজেপি। তোমাদের সব নোংরা কৌশল, তোমাদের ইডি, সিবিআই—সত্যের সামনে এই সব পুতুলের মৃত্যু অনিবার্য।’

‘দিল্লির আবগারি নীতির মাধ্যমে টেন্ডার দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিপুল দুর্নীতি করেছে আপ সরকার’, এই মর্মেই অভিযোগ দায়ের করেছিল ইডি এবং সিবিআই। গ্রেপ্তার করা হয় স্বয়ং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিশোদিয়া, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে। পাঠানো হয় তিহার জেলে। মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন কেজরিওয়াল। তাঁকে ও আপ সরকারকে দুর্নীতির কালিমায় বিদ্ধ করে ২৭ বছর পর দিল্লি বিধানসভা দখল করে মোদির দল। কিন্তু তার এক বছরের মধ্যেই বিনা মেঘে বজ্রপাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *