কর্মীর অভাবে বন্ধ মহকুমা হাসপাতালের ট্রমা ইউনিট, চালুর উদ্যোগ বিধায়কের
বেস্ট কলকাতা নিউজ : দীর্ঘদিন ধরেই কার্যত বন্ধ অবস্থায় রয়েছে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিট। উপযুক্ত ও প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাব ও একাধিক পরিকাঠামোগত সমস্যার জন্য চালু করা যাচ্ছে না এই বিভাগ। অথচ ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের একেবারে সংলগ্ন হওয়ায় প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনায় আহত বহু রোগীকেই প্রথমে এই হাসপাতালেই আনা হয়। ট্রমা কেয়ার ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগী ও তাঁদের পরিজনদের।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গুরুতর আহতদের ক্ষেত্রে দ্রুত বিশেষ চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি হলেও ট্রমা কেয়ার ইউনিট অচল থাকায় অনেক সময়ই রোগীদের অন্যত্র রেফার করতে বাধ্য হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে যেমন মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনই বাড়ছে ঝুঁকিও।

এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক বসে। বৈঠকে ছিলেন রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী, হাসপাতালের সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী সহ অন্য আধিকারিকরা। এই বৈঠকে ট্রমা কেয়ার ইউনিট চালু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, নতুন করে উদ্যোগ নিয়ে ইউনিটটি চালুর জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে প্রয়োজনীয় আবেদন জানানো হবে। ইউনিট চালু করতে কতজন প্রশিক্ষিত কর্মী প্রয়োজন এবং কোন কোন পরিকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে, তা উল্লেখ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে স্বাস্থ্য দপ্তরে চিঠি পাঠানো হবে।
রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, জাতীয় সড়কের একেবারে পাশে হওয়ায় রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ট্রমা কেয়ার ইউনিটের গুরুত্ব অপরিসীম। দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগীদের কথা মাথায় রেখে আমরা নির্বাচনের আগেই এই ইউনিট চালু করতে চাইছি। স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে নিয়মিত তদ্বির করা হচ্ছে। হাসপাতালের সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী জানান, প্রাথমিকভাবে ট্রমা কেয়ারের যাবতীয় পরিষেবা হাসপাতাল দিতে সক্ষম। তবে সিটি স্ক্যান সংক্রান্ত পরিকাঠামো না থাকায় ব্রেন হেমারেজ বা সেইরকম গুরুতর ক্ষেত্রে রোগীদের রেফার করতে হয়। সিটি স্ক্যান সহ প্রয়োজনীয় কিছু পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে। সেজন্য আমরা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছি।”প্রসঙ্গত, রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে বর্তমানে দশটি শয্যা রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত ও প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাবে সেই ইউনিট কার্যত নিষ্ক্রিয়। রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে বিষয়টি ওঠার পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এবার হয়তো প্রশাসন দ্রুত ট্রমা কেয়ার ইউনিট চালু করতে পারবে।

