চরম বেহাল দশা এক দশক আগে তৈরি ডোমকলের ২টি কৃষক বাজারের, ক্ষোভ ছড়ালো চাষিদের মধ্যে

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : কোথাও মস্ত লোহার গেটের উপর রয়েছে পুরনো সাইনবোর্ড। কোথাও আবার মরচে ধরা ধর্মকাঁটার পাশে সাইনবোর্ডের একাংশ পড়ে আছে। রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া বিভিন্ন ভবনে তালা ঝুলছে। ডোমকল মহকুমায় তৈরি দু’টি কৃষকবাজারের এমনই বেহাল দশা। এনিয়ে চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। মহকুমা শাসক শুভঙ্কর বালা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রায় একদশক আগে ইসলামপুরের গোয়াস ও জলঙ্গির জোটতলায় এই দু’টি কৃষকবাজার তৈরি করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল, চাষিদের উৎপাদিত শাকসব্জি ও কৃষিপণ্য সরাসরি বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকদের ন্যায্য দাম পাওয়া নিশ্চিত হয়। এজন্য প্রতিটি কৃষকবাজারে একাধিক ভবন তৈরির পাশাপাশি ফসল বিক্রির জায়গা, গুদাম ও অত্যাধুনিক ধর্মকাঁটা বসানো হয়েছিল। এই দু’টি কৃষকবাজার ঘিরে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন মহকুমার চাষিরা। কৃষিপ্রধান ডোমকল মহকুমায় বছরভর প্রচুর ধান, গম ও সব্জি উৎপাদিত হয়। চাষিদের আশা ছিল, এই কৃষকবাজারে সহজেই ফসল বিক্রি করে তাঁরা লাভবান হবেন। ফড়েদের দৌরাত্ম্য কমবে। কিন্তু বাজার চালুর প্রায় একদশক পেরিয়ে গেলেও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। বেশিরভাগ ভবন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এখন কৃষকবাজার দু’টি মূলত ধান কেনাবেচার কেন্দ্র হিসেবে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। কিন্তু কেন এমন পরিণতি? কৃষকদের দাবি, দুই জায়গাতেই সমস্যার ধরন আলাদা হলেও মূল কারণ সঠিক পরিকল্পনার অভাব। গোয়াসের কৃষকবাজারটির ভৌগোলিক অবস্থানই তার ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। সেখানে পৌঁছতে বেশি সময় নষ্ট হবে। গাড়িভাড়াও বেশি লাগবে। মূল বাজার এলাকা থেকে দূরে হওয়ায় সেখানে ব্যবসায়ীদের আনাগোনা একেবারেই নেই। ফলে সেখানে গিয়ে চাষিরা লাভের মুখ দেখেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *