চিন্তা বাড়বে স্বাস্থ্য ও বায়ু দূষণ নিয়ে , জাতীয় বিজ্ঞান সম্মেলনে এমনটাই জানালেন WHO এর বিজ্ঞানী
বেস্ট কলকাতা নিউজ : সাধারণ ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে বিজ্ঞানের অগ্রগতি বুঝতে এবং বিজ্ঞানের উপর আস্থা বৃদ্ধি করতে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা উচিত ৷ এমনই মন্তব্য করলেন ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন (WHO) এর অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিজ্ঞানী ড. সৌম্য স্বামীনাথন ৷ ইনাডুর (রামোজি গ্রুপের মিডিয়া বিভাগ) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদে একটি জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করেছিল অ্যাকাডেমি ফর সায়েন্স, টেকনোলজি ও কমিউনিকেশন এবং ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি ফর সায়েন্সেস, ইন্ডিয়া ৷ বিএম বিড়লা বিজ্ঞান কেন্দ্রের ভাস্কর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের থিম-‘২০৪৭ সালে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে গবেষণাগারের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান সমাজ-জীবনে প্রয়োগ করা ৷’
বৃহস্পতিবারের ওই সভায় বিজ্ঞানী বলেন, “বিজ্ঞান তিনটি সত্যের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে থাকে ৷ প্রথম সত্য, প্যাথোজেন (ব্যকটেরিয়া ) একস্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে কোনও পাসপোর্ট প্রয়োজন হয় না ৷ দ্বিতীয়ত – ক্লাইমেট চেঞ্জ বা আবহাওয়া পরিবর্তনের কোনও সীমারেখা নেই ৷ এবং তৃতীয়ত মানুষের বিভিন্ন কৌতূহল বা জানার আগ্রহ যে কোনও সীমানা অতিক্রম করে ৷” পুরো অনুষ্ঠানটিতে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. স্বামীনাথন ৷ WHO-তে গ্লোবাল হেল্থ নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ করেছেন ৷ বর্তমানে M S Swaminathan Research Foundation এর চেয়ারম্যাপ রয়েছেন তিনি ৷

তিনি বলেন, “কীভাবে আমরা বিজ্ঞানকে ল্যাবরেটরি থেকে সোস্যাইটি বা সমাজে নিজে যাই ? সবাই ভাবেন বিজ্ঞান মানে ল্যাবরেটরিতে সাদা কোট পরে থাকা ৷ বর্তমানে আমরা যা গ্রহণ করেছি তার পুরোটাই বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে আবিষ্কার করা হয়েছে ৷ আমরা এমন একটা বিশ্বে বসবাস করছি যেখানে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেন বিজ্ঞান ভঙ্গুর একটা বিষয় ৷ এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি, আমাদের ইনফোডেমিকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে ৷”
এই প্রসঙ্গে তিনি কোভিড মহামারীর প্রসঙ্গ টেনে আনেন ৷ তাঁর বক্তব্য, “কোভিড মহামারি থেকে আমরা একটা বিষয় শিখেছি ৷ আসল তথ্য এবং কমিউনিকেশন তথ্যের মধ্যে বিস্তার ফারাক ছিল ৷ সাধারণ মানুষ কিন্তু স্প্রেডশিটের মধ্যে থাকেন না ৷ তবে একটা বিষয় নিশ্চিত ছিল,কিছু বক্তব্য বা আওয়াজ ছিল বিশ্বাসযোগ্য় ৷ সামাজিক মাধ্যমে খবর জানার জন্য, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন কমিউনিকেশনের উপর নজর রেখেছিলেন সকলে ৷ যখন সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তোলেন তখন বুঝতে পারি যে তাঁরা বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে নন ৷ তাঁদের কিছু প্রশ্ন সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ৷”
তিনি আরও বলেন “ব্রডকাস্টিং থেকে সরে এসে এখন শ্রুতি নির্ভর মিডিয়ায় দিকে আমাদের সরে যাওয়ার প্রয়োজন ৷ কিন্তু এই মাইন্ডসেট পরিবর্তন করা কঠিন ৷ এরজন্য শিক্ষক, যুব সমাজকে জনস্বাস্থ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে ৷ আমি মনে করি একটি কাগজে লেখা কোনও কিছু আপনি যতদিন কাছে রাখতে পারবেন তার থেকে কোনও ঘটনা যেটা আপনি শুনছেন সেটা আপনার কাছে দীর্ঘদিন থাকবে ৷

