প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুলে সাফল্যের আলো, মাধ্যমিকে ৯৬ শতাংশ পাশ, গর্বে উজ্জ্বল ওকড়সা উচ্চ বিদ্যালয়

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

নিজস্ব সংবাদ দাতা : ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। আর সেই ফল প্রকাশের পরই পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকের প্রত্যন্ত সিঙ্গি অঞ্চলের ওকড়সা স্কুল-এ যেন নেমে এসেছে আনন্দের বন্যা। সীমিত পরিকাঠামো, গ্রামবাংলার সাধারণ পরিবেশ আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে এবছর প্রায় ৯৬ শতাংশ পাশের হার অর্জন করেছে এই বিদ্যালয়। আর সেই সাফল্যে খুশির হাওয়া শুধু স্কুল চত্বরে নয়, গোটা এলাকাজুড়েই।এদিকে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর মোট ১৭৮ জন ছাত্র-ছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। তার মধ্যে সফল হয়েছে ১৭১ জন। প্রত্যন্ত গ্রামের একটি স্কুলের জন্য এই ফলাফল নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গর্বের।

এবার বিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে অন্বেষা চৌধুরী। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৫। বাড়ি মুল্টিগ্রামে। শান্ত স্বভাবের এই মেধাবী ছাত্রী জানিয়েছে, প্রতিদিন নিয়ম করে প্রায় চার ঘণ্টা পড়াশোনা করত সে। তবে শুধুই পড়াশোনা নয়, অবসরে গান শুনতে খুব ভালোবাসে অন্বেষা। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করে আরও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে সে। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের আর এক কৃতী ছাত্রী তিয়াসা ঘোষ পেয়েছে ৬৭৩ নম্বর। সিঙ্গিগ্রামের বাসিন্দা তিয়াসা জানায়, প্রতিদিন প্রায় ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা করত সে। পড়াশোনার ফাঁকে ছবি আঁকা তার খুব প্রিয়। ভবিষ্যতে সেও বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করতে চায় এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে চায় দৃঢ় মনোবল নিয়ে।

দুই কৃতী ছাত্রীই জানিয়েছে, এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষকদের উৎসাহ, পরামর্শ এবং পাশে থাকার মানসিকতাই তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং এলাকার মানুষজন। অনেকেই বলছেন, শহরের বড় স্কুল নয়, গ্রামবাংলার সাধারণ বিদ্যালয় থেকেও যে পরিশ্রম, একাগ্রতা আর সঠিক দিশা থাকলে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব— তা আবারও প্রমাণ করে দিল ওকড়সা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। গ্রামের সরু পথ, সাধারণ পরিবার আর সীমিত সুযোগের মধ্যেও যে স্বপ্ন থেমে থাকে না, সেই গল্পই যেন নতুন করে লিখল সিঙ্গির এই বিদ্যালয়। আজ এই সাফল্যে গর্বিত শুধু একটি স্কুল নয়, গর্বিত গোটা এলাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *