বাংলাভাষীদের চরম হেনস্তা দেশের ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে, তীব্র সমালোচনা অর্থনৈতিক সমীক্ষায়
বেস্ট কলকাতা নিউজ : বিজেপি শাসিত রাজ্যে রাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্তার বিরুদ্ধে সোচ্চার তৃণমূল ও কংগ্রেস। বাংলাভাষী মানেই যে বাংলাদেশি নয়, তা হাজার বুঝিয়েও বিজেপি সরকারের সম্বিত ফেরাতে পারেনি বিরোধীরা। এবার বিরোধীদের বক্তব্যকেই সিলমোহর দিলেন সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন। মোদি সরকারকে ‘আয়না’ দেখালেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে তৈরি সংসদে পেশ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বিজেপি শাসিত রাজ্যে ‘বাংলাভাষী’দের হেনস্তার প্রবল সমালোচনা করা হল।

উল্লেখ্য , হরিয়ানার গুরুগ্রাম হোক বা দিল্লির জয় হিন্দ ক্যাম্প। বাংলাভাষীদের বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্তার জেরে কীভাবে শহরাঞ্চলে কুপ্রভাব পড়ে, তার ছবিই সমীক্ষা রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে বিরোধীদের বক্তব্য যে মোটেই অমূলক ছিল না, তা প্রতিষ্ঠা পেল সাদা-কালো ছাপার অক্ষরে। সংসদে পেশ হওয়া অর্থনৈতিক সমীক্ষায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নগরায়নের জেরে গরিবদের একাংশ চলে আসছে শহরে। কাজের সন্ধানে। অসংগঠিত শ্রমিকের কাজেই মূলত তাদের দিন গুজরান। কাগজ কুড়নো, লোকের বাড়ি কাজ করা, বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহের মতো কাজ করে তারা। আর সেই কাজের জন্যই স্বচ্ছ থাকে শহর। এই কাজের অধিকাংশ যুক্ত বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিক। তাদের অবদান অনেক। তবুও ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পুলিসি হেনস্তার জেরে তারা আচমকাই এলাকা ছেড়েছে। ফলে শহরে জমে নোংরা আবর্জনার স্তূপ। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়। তাই নীতি নির্ধারকদের এ ব্যাপারে ভেবে দেখাই শুধু নয়, অংসগঠিত ক্ষেত্রের এই পরিযায়ী শ্রমিকদের কীভাবে সংগঠিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অন্তর্ভূক্ত করা যায় তার উদ্যোগ নিতে হবে।
সমীক্ষা রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, প্রশাসনের ভয়ে বাংলাভাষী ওইসব পরিযায়ীদের আচমকা এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় শহরের বিপর্যয় শুধু স্যানিটেশন পরিষেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গৃহকর্মী, রান্নার লোক এবং অন্যান্য অসংগঠিত পরিষেবা প্রদানকারীরাও শহর ছেড়ে চলে যান। ফলে বহু পরিবারকেও বিকল্প খুঁজতে হিমশিম খেতে হয়। বেশি পারিশ্রমিক দিতে বাধ্য হয়। এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে, অসংগঠিত শ্রম সহজে বাতিল করার বিষয় নয়। বরং দৈনন্দিন নগর জীবনের মৌলিক ভিত্তি। যা না মিললে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিষেবার অবনতি ঘটাতে পারে।

