২৬/১১ হামলা, মুম্বইয়ে রেকি চালাতে ভুয়ো অফিস খুলেছিল ডেভিড হেডলি, ব্যবহার করত না কোনো ল্যান্ডফোন, চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি করলো এনআইএ

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : ২৬/১১ মুম্বই হামলার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অঙ্গ হিসেবেই বাণিজ্য নগরীতে ভুয়ো অভিবাসন অফিস খুলেছিল ডেভিড কোলম্যান হেডলি। ওই ভুয়ো অফিসকে ‘ঢাল’ করেই ২০০৮ সালের হামলার আগে মুম্বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় রেকি করেছিল সে। নেপথ্যে ছিল লস্কর কমান্ডারদের নির্দেশ। অতিরিক্ত চার্জশিটে এই দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।

পাকিস্তান-জাত মার্কিন নাগরিক হেভিড হেডলির আসল নাম দাউদ সইদ গিলানি। মুম্বই হামলায় জড়িত থাকার দায়ে আমেরিকায় ৩৫ বছরের সাজা হয়েছে তার। তদন্তে সহযোগিতা করার যুক্তি দেখিয়ে হেডলিকে ভারতে প্রত্যর্পণ করেনি আমেরিকা। তবে হেডলির সহযোগী তাহাউর হুসেন রানাকে ইতিমধ্যেই হাতে পেয়েছে ভারত। রিপোর্ট অনুযায়ী, রানার প্রত্যর্পণের পর এনআইএ অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করে। সেখানেই হেডলির ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে বলে খবর। মার্কিন বিচার বিভাগের নথি থেকে ইতিমধ্যেই তার সম্পর্কে বহু তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠন লস্করের অন্তত পাঁচটি প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিয়েছিল হেডলি। লস্কর কমান্ডারদের নির্দেশেই সে ভারতে এসেছিল নজরদারির কাজ চালাতে। এনআইএ-র অতিরিক্ত চার্জশিটে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি জঙ্গিনেতাদের বৃহত্তর চক্রান্তের অঙ্গ হিসেবেই মুম্বইয়ে ভুয়ো অভিবাসন অফিস খুলেছিল হেডলি। ভুয়ো অভিবাসন ব্যবসাকে সামনে রেখে অবাধে নজরদারির কাজ চালানোই ছিল আসল লক্ষ্য। ওই অফিসের এক প্রাক্তন কর্মীর কাছ থেকে হেডলি সম্পর্কে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন এনআইএ-র তদন্তাকারীরা।

ওই প্রাক্তন কর্মীর বয়ান অনুযায়ী, প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখতে হেডলি কখনও তার ওই অফিসে নামাজ পাঠ করত না। অফিস থেকে ইমেল না করে যেত কাছের একটি সাইবার কাফেতে। অফিসের ল্যান্ডফোন ব্যবহার না করে কথা বলত মোবাইল ফোনে। অফিসে নিয়ম করে ‘ক্লায়েন্ট’ এলেও কখনওই ভিসা সংক্রান্ত কোনও কাজ হয়নি। আর তা থেকেই তদন্তকারীদের ধারণা, ভুয়ো অভিবাসন অফিসকে ঢাল করেই বাণিজ্যিক প্রয়োজনে ভারতে থাকার যুক্তি দেখিয়েছিল হেডলি। আদতে তার লক্ষ্য ছিল নজরদারি চালিয়ে সেইসব তথ্য পাকিস্তানে লস্কর কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তবে শুধু মুম্বই নয়, পুষ্কর ও দিল্লিতেও গিয়েছিল সে। তবে সেই সফরগুলির কারণ কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *