আরজিকর লিফট বিভ্রাট কাণ্ডের জের, ফাঁকফোকড় খতিয়ে দেখতে তৎপর হল মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
বেস্ট কলকাতা নিউজ : আরজিকর লিফট বিভ্রাট কাণ্ডের পর কোথাও কোনো ফাঁকফোকড় রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখতে সজাগ হয়ে ঝাঁপাল মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পূর্ত দপ্তরের সঙ্গে আলোচনায় বসে হাসপাতালের লিফটগুলিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। সামান্যতম ত্রুটি ধরা পড়া লিফট বন্ধ রেখে তার মেরামতি শুরু করা হয়েছে। সচল প্রত্যেক লিফটের সঙ্গে একজন করে অপারেটর রাখা হয়েছে। রোগী এবং রোগীর আত্মীয়দের জন্য ব্যবহৃত বাথরুম এবং যাতায়াতের পথ কেমন অবস্থায় রয়েছে খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাগুলির খোলনলচেও এই দফায় আর একবার খতিয়ে দেখা হয়েছে।

মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অনাদি রায়চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে মেন বিল্ডিং ও ওপিডি বিভাগের লিফটগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি। কোয়ার্টারের একমাত্র লিফটে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় সেখানে আপাতত তালা মেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেরামতির পরেই সেটি চালু করা হবে। নিরাপত্তা বা অন্য বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই। আরজিকর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফটে যান্ত্রিক বিভ্রাটে ছেলের চিকিৎসা করাতে এসে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় বাবার। আর তারপর দিন আবার বাথরুম যাওয়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আরও রোগীর মৃত্যু হয়। দু’টি ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে শোরগোল পড়ে যায়। এরপরেই মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি পিডব্লুডির সঙ্গে বৈঠক বসে। পিডব্লুডি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বৈঠকের পর সমস্ত লিফটের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১টি লিফট রয়েছে। সবগুলিই পিডব্লডির অধীনে রয়েছে। এজেন্সির মাধ্যমে অপারেটর নিয়োগ করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপিডি বিভাগে রোগীর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার ওপিডি বিভাগে ছ’হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। রোগীর সঙ্গে তাঁদের আত্মীয়রা ছিলেন।

