টোকেনের আড়ালে ব্যাপক তোলাবাজি, হাওড়ায় দীঘা বাসস্ট্যান্ডে সিন্ডিকেটের অবসান চেয়ে সরব মালিক ও কর্মীরা

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : দৈনিক টোকেনের নাম করে অতিরিক্ত টাকা আদায়, নতুন বাস নামাতে হলে লক্ষাধিক টাকা দেওয়া, প্রতিবাদ করলেই রুটে বাধা কিংবা বাসস্ট্যান্ডে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ— হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন দীঘা বাসস্ট্যান্ডকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেটরাজের অবসান চেয়ে এবার সরব হয়েছেন বাস মালিক ও কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে চলা এই তোলাবাজি পুরোপুরি বন্ধ করে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি স্বচ্ছভাবে সংগঠনের নির্বাচন করে পরিবহণ কর্মীদের অধিকার ও সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে।

দীঘা বাসস্ট্যান্ড থেকে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন প্রায় ২৮০টি বাস ছাড়ে। বাস মালিকদের একাংশের অভিযোগ, ইন্টার অ্যান্ড ইন্ট্রা রিজিয়ন বাস অ্যাসোসিয়েশনের নাম করে দীর্ঘদিন ধরেই এখানে তোলাবাজি চলছে। অভিযোগ, প্রতিদিন ৫০ টাকার টোকেন ধরিয়ে দেওয়া হলেও বাসপিছু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হতো। কেউ নতুন বাস রুটে নামাতে চাইলে মালিকদের এককালীন দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত গুনতে হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেকের দাবি, তোলাবাজির প্রতিবাদ করলেই নানাভাবে হেনস্তা করা হতো। কখনও রুটে বাস নামতে দেওয়া হতো না, কখনও আবার ট্রিপ শেষে দীঘা বাসস্ট্যান্ডে বাস ঢুকতে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, রুট পারমিট কিংবা বৈধ কাগজ না থাকলেও বহু বাস এই রুটে নিয়মিত বেআইনিভাবে চালানো হতো।

পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে ২১ বছর ধরে যুক্ত রূপক মান্না বলেন, সিন্ডিকেটের প্রতিবাদ করায় তাঁকে চাপের মুখে ফড়তে হয়েছে। শেষমেশ তিনি বাস বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০১১ সালের পর থেকে ৫০ টাকার রশিদে ১৩০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো। রাতে বাসস্ট্যান্ডে বাস রাখলে আবার অতিরিক্ত টাকা গুনতে হতো। পুরসভার নাম করে টাকা তোলা হলেও তা পুরসভার তহবিলে জমা পড়ত না বলে দাবি তাঁর। ২০১৬ সালে তিনি গোলাবাড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন তাঁর বাস রুটে নামতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ২০২১ সালে মামলা প্রত্যাহার এবং পরে রুট পারমিট সহ ওই বাস বিক্রি করতে হয় তাঁকে।

বাস সংস্থার মালিক অলক দাসের অভিযোগ, টয়লেট ব্যবহার করলেও কর্মীদের তার জন্য এতদিন টাকা দিতে হতো। অথচ পরিবহণ কর্মীদের জন্যই ওই টয়লেট তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিবাদ করলেই চলত হয়রানি। এসব এবার বন্ধ হোক। বাসকর্মী হারু চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আপত্তি করলেই বাসস্ট্যান্ডে ঢুকতে না দিয়ে হাওড়া ব্রিজের দিকে বাস ঘুরিয়ে দেওয়া হতো। ফলে পরের ট্রিপে দেরির পাশাপাশি পুলিশের জরিমানার মুখেও পড়তে হতো।’ এখন রাজ্যে পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাস মালিক ও কর্মীদের একাংশ ইতিমধ্যেই এই দাবি তুলতে শুরু করেছে। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেটরাজ পুরোপুরি বন্ধ করে স্বচ্ছভাবে সংগঠনের নির্বাচন হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *