ডার্ক ওয়েবে দেদার ভিপিএন বিক্রি মাত্র ১২০০ টাকায় , অপরাধ জগতের এক দরজা খুলছে ‘মিস্টার এক্স’
বেস্ট কলকাতা নিউজ : হোয়াটসঅ্যাপে ‘এপিকে’ ফাইল পাঠিয়ে মোবাইলের দখল নেওয়া—এটাই এখন সাইবার অপরাধীদের কাছে ট্রেন্ডিং মোডাস অপারেন্ডি বা অপরাধের ধরন। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ প্রেরকের মোবাইল নম্বর মিললেও তার লোকেশন ট্র্যাক করতে কালঘাম ছুটছে পুলিশের। নেপথ্যে রয়েছে ‘মিস্টার এক্স’। না রিল-দুনিয়ার কিশোর কুমার বা অনিল কাপুর নন। রিয়েল ডার্ক ওয়েবের ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক। তাতেই অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে জালিয়াতদের লোকেশন। উন্নত প্রযুক্তিকে কাজে লাগালেও সাইবার পুলিশের নাগালে আসছে না অপরাধের উৎসস্থল। ডার্ক ওয়েবে দেদার বিক্রি হচ্ছে ভিপিএন। দাম? মাত্র ১২০০ টাকা। প্রতি অপরাধের ক্ষেত্রে বদলাচ্ছে জালিয়াতিদের পরিচিত ‘মিস্টার এক্স’।

ডিসেম্বরে রুজু হওয়া ৩৫ লক্ষ টাকার প্রতারণা মামলার তদন্তে নেমে বিহার গ্যাংয়ের ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার। ধৃতদের জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা জেনেছেন, কম টাকায় প্রচুর পরিমাণে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক কিনত অভিযুক্তরা। আর তা কাজে লাগানো হত প্রতারণায়। যাতে পুলিশি নজর এড়ানো যায়। ভিপিএন শব্দটা অপরাধ জগতে খুব একটা পরিচিত নয়। তারা চেনে ‘মিস্টার এক্স’ নামেই। সিনেমার নামে নামাঙ্কিত এই ‘ছদ্মবেশ’ টেলিগ্রাম গ্রুপে থাকা সাইবার জালিয়াতদের মধ্যে অতি পরিচিত। সেখানেই টাকার বিনিময়ে মেলে অননুমোদিত ভিপিএন। তার উপর সরকারি নজরদারি এখনও নেই।
কীভাবে হয় এই ভিপিএন কেনা? সাইবার গোয়েন্দা সূত্রে খবর, টেলিগ্রাম অ্যাপে বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে। সেখানে সাইবার জালিয়তদের একাংশের আনাগোনা। শুধু তাই নয়, ইনস্টাগ্রামেও বিভিন্ন পেজ থেকে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বিক্রি করা হচ্ছে টাকার বিনিময়ে। হাজার থেকে ১২০০ টাকার মধ্যেই এর দাম ঘোরাফেরা করে। কোনও উৎসব বা দেশব্যাপী প্রশাসনিক কোনও অর্ডার কার্যকর হলে এই ভিপিএনের রেট বাড়ে। আধার প্রতারণার সময় ভিপিএন পিছু অপরাধীদের খরচ পড়েছিল ৩-৪ হাজার টাকা। অর্থবর্ষ শেষে আইটি ফাইল জমা দেওয়ার সময়েও ডার্ক ওয়েবে ভিপিএন কেনার হিড়িক পড়ে। তখনও বেড়ে যায় খরচ।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিপিএন ব্যবহার ভারতে বেআইনি নয়। কিন্তু ডার্ক ওয়েবে যে সব ভিপিএন বিক্রি হচ্ছে, তার হদিশ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাছে থাকে না। নকল আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে এই ভিপিএন তৈরি হচ্ছে। সেই আইপি দিয়েই টেলিগ্রাম গ্রুপে বিক্রি করা হচ্ছে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক। পরবর্তীতে আইপি মাস্ক করে দেওয়া হচ্ছে। এই ‘মিস্টার এক্সের’ অন্যতম বৈশিষ্ট্য, ইন্টারনেট জিওস্পেশাল লোকেশন ট্র্যাক করা যায় না। সেন্সর থাকা কন্টেন্ট-এরও অ্যাকসেস পাওয়া যায় এই ভিপিএনের মাধ্যমে।

