পড়শির ফ্ল্যাট থেকে দেড় কোটি টাকা মূল্যের গয়না চুরি, সরশুনায় গ্রেফতার হল বিবিএ’র এক ছাত্র

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : সরশুনার অভিজাত আবাসনের চারতলার বাসিন্দা শুক্লা পরিবার। বড় মেয়ে এমবিএ পড়ুয়া। ওই টাওয়ারের একতলায় থাকত বিবিএ পড়ুয়া হর্ষবর্ধন সাউ। পড়াশোনার সুবাদে তরুণীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় হর্ষবর্ধনের। তাঁদের ফ্ল্যাটে যাতায়াত শুরু করে ওই ছাত্র। কিন্তু মতলব যে অন্য, ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেনি কেউ। অন্দরমহলে অবাধ যাতায়াতের সুবাদে সবার নজর এড়িয়ে সাবান নিয়ে এসে চাবির ছাপ তুলে নেয়। তাই দিয়ে বানিয়ে ফেলে নকল চাবি। এরমাঝে তরুণীর কাছ থেকে হর্ষবর্ধন জেনে নেয়, জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখ থেকে কয়েকদিনের জন্য বাইরে যাচ্ছে গোটা পরিবার। সঙ্গে সঙ্গে প্ল্যান করে ফেলে হর্ষবর্ধন। অনলাইনে কিনে ফেলে টাকা গোনার মেশিন, ইলেকট্রিক করাত, গ্যাস কাটারের মতো সামগ্রী। চাবি খুলে ঢোকার পর সিন্দুক কেটে হাতায় ১১৫০ গ্রাম সোনা ও নগদ ২৫ লক্ষ টাকা। তবে চুরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে অনলাইনে করা পেমেন্টই ধরিয়ে দেয় হর্ষবর্ধনকে। রবিবার রাতে ওই আবাসন থেকে ধরা পড়ে গেল বিবিএ’র এই ছাত্র।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্লা পরিবারের সদস্যরা পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজে রাঁচিতে গিয়েছিলেন। ২২ জানুয়ারি এমবিএ পড়ুয়া ছাত্রী ফ্ল্যাটে ফিরে আসেন। পরের দিন পরিবারের বাকিরা ফিরে এসে দেখেন, সিন্দুক ও আলমারি ভাঙা। সেখানে রাখা দেড় কোটি টাকার সোনার গয়না ও নগদ ২৫ লক্ষ টাকা উধাও। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে লালবাজারের চুরি দমন শাখা। ফ্ল্যাটে গিয়ে অফিসাররা দেখেন, সিন্দুক কাটা হয়েছে ইলেকট্রিক করাত ও গ্যাস কাটার দিয়ে। পিছনের দিকের গ্রিলও একটু কাটা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কিছু পাওয়া যায়নি। ওই বহুতলের নিরাপত্তারক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, কয়েকদিন আগে ওই আবাসনের একতলার বাসিন্দা হর্ষবর্ধনের অনলাইন ডেলিভারি এসেছিল তাঁদের কাছে। ওই তরুণ বলেছিল, ডেলিভারি বয়ের কাছ থেকে ডেলিভারি নিয়ে রাখতে। পরের দিন সে নিয়ে নেবে। যে ই-কমার্স সংস্থা থেকে ডেলিভারি এসেছিল, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, নগদ গোনার মেশিন, ইলেকট্রিক করাত, গ্যাস কাটার সহ বিভিন্ন জিনিস কিনেছিল হর্ষবর্ধন। পেমেন্ট করা হয়েছিল ইউপিআই অ্যাকাউন্ট থেকেও।

এদিকে তদন্তকারীদের মনে প্রশ্ন জাগে, বিবিএ পড়ুয়া ছাত্রের এহেন সরঞ্জাম কেনার প্রয়োজন পড়ল কেন? অনলাইনের সূত্র ধরে, হর্ষবর্ধনের মোবাইল নম্বর হাতে আসে। অফিসারদের নজরে পড়ে, শুক্লাদের ফ্ল্যাটে গত ২০ ও ২১ জানুয়ারি হর্ষবর্ধনের টাওয়ার লোকেশন। সন্দেহ গিয়ে পড়ে তার উপর। দীর্ঘ জেরা পর্ব শেষে হষবর্ধন জানায়, সোনার অলঙ্কার ও টাকা সে হাতিয়েছে। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে সিন্দুক কাটার সামগ্রীগুলি অর্ডার করে বেঙ্গালুরুর এক বন্ধুর মাধ্যমে। ইউটিউব দেখে সেগুলি কাটা শেখে। চুরির ঘটনা জানাজানির পর সে শুক্লাদের ফ্ল্যাটে এসেছিল। ফ্ল্যাটের লোকজন উল্টোদিকের বাড়ির সিসি ক্যামেরা দেখতে চাইলে সে সাহায্য করার নাম করে, সেখান থেকে হার্ডডিস্ক গায়েব করে দেয়। সন্দেহ এড়াতে চুরির পর যতটা সম্ভব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টাও করেছিল হর্ষবর্ধন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *