স্কুলের ক্লাসরুমের দেওয়াল যেন আস্ত ট্রেন! পড়াশোনা চলছে ‘বিবেক এক্সপ্রেসে’ , অভিনব উদ্যোগ কাঁথির এই স্কুলের
বেস্ট কলকাতা নিউজ : স্কুলের ক্লাসরুমের দেওয়াল যেন আস্ত ট্রেন! বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার বাড়বাড়ন্তের যুগে ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়মুখী করতে অভিনব ভাবনা নিল কাঁথির নয়াপুট সুধীরকুমার হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের বিবেক ভবন ক্লাসরুমের নবরূপায়ণ ঘটিয়ে তা ট্রেনের আদল দেওয়া হয়েছে। নামকরণ করা হয়েছে ‘বিবেক এক্সপ্রেস’। ট্রেনের তিনটি কামরার গায়ে ৪২টি বইয়ের ছবি আঁকা রয়েছে। দেখলে মনে হতে বাধ্য, ট্রেনটি যেন একটি আস্ত বুকসেল্ফ।

বিবেক এক্সপ্রেসের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের বিশেষ সচিব পূর্ণেন্দু মাজী। স্কুলের দু’টি সাইকেল স্ট্যান্ডের নবরূপায়ণের কাজের সূচনা হয়। এছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার দেওয়া হয়। ছেলেমেয়েরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ স্থানাধিকারী ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কানাইদিঘি দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক দিলীপ বেরা, কাঁথির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার স্বপন পন্ডা, প্রাক্তন ব্যাংক অফিসার সুদীপ মাইতি সহ শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বিবেক ভবনের নবরূপায়ণে এক লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। যা দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার আকর্ষণে ক্রমশ বইয়ের জগৎ ভুলছে ছাত্রছাত্রীরা। তাদের মধ্যে নতুন ও নানা ধরনের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে না। ফলে পড়ুয়াদের মৌলিক চিন্তাভাবনার বিকাশ হচ্ছে না। প্রধান শিক্ষক বসন্তকুমার ঘোড়াই বলেন, বই ও স্কুলের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, এখন মানুষের বিবেক শুকিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের বিবেক বা মানসিক বিকাশের জন্য নানা ধরনের বই পড়া প্রয়োজন। সোশ্যাল মিডিয়া নয়। একমাত্র বইই পারে মানুষের মধ্যে বিবেক, মৌলিক চিন্তার উন্মেষ ঘটাতে। আর এই বই পড়ার অভ্যাস ছোট থেকেই শুরু করতে হবে।

