আংটি মন্ত্রপুত করার গল্প ফেঁদে কেপমারি, সাধুর ছদ্মবেশে ফ্ল্যাটে হানা দুষ্কৃতীদের, গ্রেপ্তার হল মূল অভিযুক্ত প্রধান সন্ন্যাসী

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : সাধু বেশে হানা। বাড়ির মালিকের সোনার আংটি মন্ত্রপুত করে দেওয়ার টোপে কেপমারি চালাল একদল দুষ্কৃতী। প্রায় ৩ গ্রাম ওজনের ওই সোনার অলংকার হাতিয়ে চম্পট দেয় তারা। নিউ আলিপুর থানায় অভিযোগ জানান বাড়ির মালিক। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। কিন্তু, কিনারা না হওয়ায় তদন্তভার যায় লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের ওয়াচ শাখার হাতে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে মূল অভিযুক্ত তথা ‘প্রধান সন্ন্যাসী’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম রাজু কুমার (৩৫)।

জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে ৩ ফেব্রুয়ারি । সাতসকালে অভিজাত এলাকায় হঠাৎ একদল সাধুর আগমন হয়। নিউ আলিপুরের পি-৮০৮ নম্বর বাড়িতে বেল বাজান তাঁরা। দরজা খোলেন গৃহকর্তা অনির্বাণ দাশগুপ্ত। তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজার পদে কর্মরত। বাড়িতে সাধু আসায় তাঁর সঙ্গে ভক্তি ভরে কথা বলছিলেন তিনি।এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, সাধুর ছদ্মবেশে রাজু ব্যাংক ম্যানেজারকে দুর্ঘটনার ফাঁড়ার কথা বলে ভয় দেখায়। ‘কীভাবে সেই ফাঁড়া কাটবে?’— জানতে চান অনির্বাণ। ছদ্মবেশী সাধুর ততক্ষণে নজর পড়েছে ব্যাংক ম্যানেজারের ডান হাতের আঙুলে থাকা সোনার আংটিতে। সাধু জানায়, ওই আংটি মন্ত্রপুত করে দিলেই ফাঁড়া কাটবে। প্রাণভয়ে সেই আংটি বেমালুম খুলে দেন অনির্বাণবাবুও।

এরপরেই ‘সাধু’র কারসাজি! তিনি বলেন, ‘আপনি পিছন ঘুরুন। ৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে থাকতে হবে। আংটি মন্ত্রপুত করার পদ্ধতি দেখে নিলে আর কাজ হবে না। ফাঁড়া কাটবে না। দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হতে পারে তাঁকে।’ একথা শুনেই পিছন ঘুরে যান ব্যাংক ম্যানেজার। তাতেই দলবল নিয়ে চম্পট দেয় ভেকধারী সাধুর দল। কেপমারির শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে দ্রুত নিউ আলিপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন অনির্বাণ। কীভাবে সাধুর খপ্পড়ে পড়লেন তিনি? তা নিয়ে থানাতেও একাধিক প্রশ্নের সম্মুখীন হন তিনি। লালবাজার জানিয়েছে, ওই বাড়িতে একাধিক সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এছাড়াও রাস্তার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। প্রায় ২৫টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, রাজুই মূল অভিযুক্ত। সোনার আংটি হাতানোর পর নিউ আলিপুরের একটি গলিতে গিয়ে বেশ বদলে নেয় অভিযুক্তরা। সাধারণ জামাকাপড় পড়ে এলাকা থেকে চম্পট দেয় তারা। হেস্টিংস ব্রিজের তলায় ঝুপড়িতে বসবাস করে রাজু। যদিও তার আদি বাড়ি গুজরাতে। অভিযুক্তের থেকে খোয়া যাওয়া আংটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *