আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কৃষকদের সঙ্গে এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা, পাঁচটি প্রশ্ন তুলে সরব হলেন রাহুল গান্ধী

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : বহু টালবাহানার পরে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা হয়েছে। এই সমঝোতায় এতদিন পর্যন্ত সংরক্ষিত ভারতের ডেয়ারি এবং কৃষিক্ষেত্র আমেরিকার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। যদিও সেই দাবি খারিজ করেছে মোদি। এই চাপানউতোরের মধ্যেই এব্যাপারে পাঁচদফা প্রশ্ন তুলে মোদি সরকারকে বিঁধলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, এই চুক্তির ফলে দেশের কৃষিক্ষেত্র রক্ষাকবচ হারাবে। এই চুক্তির নামে দেশের কৃষকদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।

চুক্তিতে আমেরিকা থেকে গবাদি পশুর খাদ্য ডিডিজি আমদানির কথা রয়েছে। এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কংগ্রেস সাংসদের প্রশ্ন, এর অর্থ কি এবার ভারতের গবাদি পশুরা আমেরিকার জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) ভুট্টা খাবে? তাতে কি ভারতের ডেয়ারি ক্ষেত্র মার্কিন কৃষিক্ষেত্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে না? দ্বিতীয়ত, জিএম সয়াবিন তেলের আমদানি হলে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান সহ গোটা দেশের সয়াবিন চাষিরা কীভাবে দামের ধাক্কা সামলাবেন?তৃতীয়ত, চুক্তিতে যে ‘অতিরিক্ত পণ্য’র কথা বলা হয়েছে, সেগুলি কী কী? সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতে কি ডাল ও অন্যান্য মার্কিন কৃষিপণ্যের প্রবেশের পথ সুগম করা হল? চতুর্থত, বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করার কথা বলা হয়েছে চুক্তিতে। এর মাধ্যমে জিএম কৃষিপণ্য নিয়ে অবস্থান শিথিল ও নূন্যতম সহায়ক মূল্যের মতো বিষয় কি তুলে দেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে? পঞ্চমত, এই সব পণ্যের দরজা একবার খুলে দিলে প্রতি বছর তার বহর বৃদ্ধি রোধ কীভাবে করা যাবে?

পালটা রাহুলের বিরুদ্ধে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার গান্ধীনগরে এক অনুষ্ঠানে শাহ বলেন, আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘মিথ্যা’ ছড়াচ্ছেন রাহুল। রাহুলের দাবি ‘হাস্যকর’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। শাহ বলেন, ‘সংসদে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসের শাহজাদা যখন কৃষকদের স্বার্থরক্ষার কথা বলেন, তখন আমার হাসি পায়। দেশের কৃষকদের বিপথে চালিত করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে কংগ্রেসের। এখন তারা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মিথ্যাচার করছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *