কয়লা পাচার মামলায় একযোগে অভিযান ইডির , দুর্গাপুর আসানসোল জুড়ে চললো ব্যাপক তল্লাশি

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

পশ্চিম বর্ধমান : কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলায় বড়সড় অভিযান শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এদিন মূলত ভোর থেকেই দুর্গাপুর, আসানসোল, বর্ধমান, জামুড়িয়া-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয় । সূত্রের খবরঅনুযায়ী এদিন অন্তত ১২টি স্থানে এই তল্লাশি অভিযান চলে এবং এদিন তদন্তের আওতায় ছিলেন রাজ্য পুলিশের এক কর্মীও।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, পাচারের কালো টাকা কীভাবে হাওয়ালার মাধ্যমে ঘোরানো হত, সেই আর্থিক নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখাই ছিল এদিনের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি কয়লা পাচারের বিনিময়ে কারা ‘প্রোটেকশন মানি’ আদায় করত, সেটিও তদন্তের নজরে ছিল।এদিকে এদিন দুর্গাপুরের অম্বুজা নগরীতে বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে সকালেই পৌঁছয় ইডির বিশেষ দল। কয়েক দিন আগেই তাঁর নতুন পোস্টিং হলেও এখনও দায়িত্ব গ্রহণ করেননি বলে জানা গেছে। এদিন জোর জিজ্ঞাসাবাদও চলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে।

এছাড়াও দুর্গাপুরের সেপকো টাউনশিপে এক বালি ব্যবসায়ীর বাড়ি, সিটি সেন্টার এলাকার একটি আবাসন এবং পান্ডবেশ্বর–কাঁকসা সংলগ্ন জাতীয় সড়কের বাইপাসের কাছেও তল্লাশি চালানো হয় এদিন । অভিযানের তালিকায় ছিল পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় একাধিক ব্যবসায়ীর বাড়িও। তদন্তকারীদের দাবি, অজয় ও দামোদর নদ থেকে বালি তুলে বৈধ ও অবৈধ—দু’ভাবেই সরবরাহ চলত। অভিযোগ, একটি চালানকে একাধিকবার ব্যবহার করে নথিভিত্তিক জালিয়াতির মাধ্যমে পাচার করা হত বালি। এই প্রক্রিয়াতেই বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। প্রশাসনিক মহলের মতে, আগেও এই মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে তলব করা হয়েছিল। এই অভিযান সেই তদন্তেরই বিস্তৃত পর্ব। গোটা ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের শিল্পাঞ্চলে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *