কোচবিহার থেকে ছুঁয়েছেন বিশ্বমঞ্চ , সাফল্যের শিখর কোচবিহারের এই লেডি সিভিক ভলেন্টিয়ার দেবারতি দত্ত

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

নিজস্ব সংবাদদাতা : “মেয়েরা পারে না” এটা শুনে থেমে যাননি মেয়েটি! একটা ছোট্ট শহর কোচবিহার, আর সেই শহরের এক সাধারণ মেয়ে দেবরতি দত্ত। চারপাশে ছিল সীমাহীন বাঁধা, ছিল অ’জ’স্র প্রশ্ন, “মেয়ে হয়ে ক্যারাটে শিখে কী করবে?” তবুও স্কুলের ছোট্ট করিডোরে দাঁড়িয়ে যে মেয়েটি ক্যারাটে শেখার হাতেখড়ি নিয়েছিল, আজ সে-ই হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের গর্ব।

২০১৫ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কাউন্সিল ফর স্কুল গেমসে জেলার জন্য রজত পদক নিয়ে এসে ব্ল্যাক বেল্ট অর্জন করেন দেবরতি। এরপর জেলা পর্যায়েও সিনিয়র বিভাগে প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১৭ সালে কোচবিহার কাপে প্রথম স্থান অর্জন করে মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিয়েছিলেন দেবারতি। রাজ্য পর্যায়ে নিজের দক্ষতার ছাপ রেখে ২০১৯ সালে গৌরবময় যাত্রা শুরু হয় গৌহাটি ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে। ব্রোঞ্জ মেডেল হাতে তুলে নেওয়ার পর থেকেই তাঁর নাম ধীরে ধীরে আলোয় আসতে শুরু করে। তারপর একে একে ২০২০, ২০২১, ২০২২—তিন বছর পরপর কলকাতায় আন্তর্জাতিক ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম স্থান অধিকার করে দেশের সম্মান বাড়ান দেশের নাম উজ্জ্বল করেন। স্কুল গেমসের মঞ্চেও নিজের প্রতিভার উজ্জ্বল প্রমাণ রাখেন। ২০২২ সালে দেবরতি নতুন ইতিহাস লেখেন। প্রথমবার উত্তরবঙ্গের হয়ে বেঙ্গল অলিম্পিকসে ক্যারাটে বিভাগে সিলেক্ট হন। কোচবিহারের নাম উজ্জ্বল করে ব্রোঞ্জ মেডেল জিতে নেন। উত্তরবঙ্গের গর্ব তখন পুরো রাজ্যের গর্ব হয়ে ওঠে।

তবে জী’ব’ন এতটা সহজ ছিল না। ২০২১ সালে করোনা মহামারীর কঠিন সময়ে অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় স্থান অর্জন! ২০২৪ সালের অল ইন্ডিয়া ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম স্থান অর্জন করে প্রমাণ করে দেন, যে তিনি হার মানার, কিংবা হেরে যাওয়া মেয়ে নন। কোচবিহার আর এন রোডের বাসিন্দা দেবারতি এখন কোচবিহার কোতোয়ালি থানার লেডি সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসেবে কর্মরত। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে দেবরতি দত্ত আজ কোচবিহার পুলিশেরও গর্ব। বাবা দেবপ্রসাদ দত্ত যিনি বাজারের একটি দোকানে কাজ করতেন, তাঁর প্রতিটি স্বপ্ন আজ মেয়ের হাত ধরে বাস্তব হয়েছে। মা রিনা দত্ত ও দাদা দেবায়ন দত্ত আজও তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ২০১৮, ২০১৯ এবং ২০২২ সালে পরপর তিনবার গোল্ড মেডেল জয় তাঁর মুকুটে যোগ করেছে নতুন এক পালক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *