তৈরি ছিল সৎকারের চিতা, পাণ্ডবেশ্বরের শ্মশান থেকে মৃতদেহ সিউড়ি হাসপাতালে ফেরাল পুলিশ

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : চিতা তখন প্রায় তৈরি। শ্মশানযাত্রীরা মৃতদেহ চিতায় তোলার শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের শ্মশান চত্বরে তখন শ্মশানের নিস্তব্ধতা ভেঙে কান্নার রোল। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ সাইরেন বাজিয়ে সেখানে হাজির পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। মুহূর্তে থমকে গেল দাহকার্য। পাণ্ডবেশ্বরের বাসিন্দা অজয় সিংয়ের মৃত্যুর পর শনিবার দিনভর যা চলল, তা কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ পাণ্ডবেশ্বরের বাসিন্দা অজয় সিং(২১) নামে ওই যুবককে অচৈতন্য অবস্থায় সিউড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের সুপার প্রকাশচন্দ্র বাগ জানান, ভর্তির সময় ওই যুবকের কার্যত সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিল। তার রক্তে শর্করার মাত্রা বা ‘সুগার’ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। যুবক নিয়মিত মদ্যপান করত বলে জানিয়েছিলেন পরিজনেরা। কিন্তু চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার আগেই ভর্তির মাত্র ১০-১৫ মিনিটের মাথায় মৃত্যু হয় ওই যুবকের। শোকাতুর পরিজনেরা হাসপাতালের কঠোর নিরাপত্তা আর পুলিশি ক্যাম্পের নজর এড়িয়েই মৃতদেহটি কাঁধে তুলে একপ্রকার ‘চম্পট’ দেন। হাসপাতাল থেকে সোজা শ্মশান। এদিকে, মৃতদেহ উধাওয়ের বিষয়টি নজরে আসতেই হাসপাতালের পক্ষ থেকে ফর্মে দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দেখা যায় নম্বরটি ভুয়ো। এরপরেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনার তদন্তে নামে সিউড়ি থানার পুলিশ।

মৃতের ভাই জুগনু সিং জানায় , দেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিতা সাজানো হয়ে গিয়েছিল। আমাদের নিয়ম অনুযায়ী দেহ শ্মশানে নিয়ে গেলে আর ফেরানো যায় না। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের বোঝাল। আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। অজয় আসলে রাজস্থানের কোটার বাসিন্দা। বিবাহ সূত্রে পাণ্ডবেশ্বরে থাকতেন। তাঁর ভাই জুগনু থাকতেন বিহারে। ভাইয়ের অসুস্থতার খবর পেয়েই আসেন পাণ্ডবেশ্বরে। ভাইকে নিয়ে এসে ভর্তি করেন সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। কিন্তু ভাইয়ের মৃত্যুর পর কাউকে না জানিয়ে মৃতদেহ কাঁধে তুলে নিয়ে চলে গেলেন কেন? জুগনুর কথায়, আমাদের দিকে এসব নিয়ম নেই। মৃত্যুর পরবর্তী নিয়ম সম্পর্কে আমরা জানতাম না। তারপর পুলিশ আমাদের বোঝায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *