দাসপুরে রূপনারায়ণে মৎস্যজীবীর জালে ধরা পড়ল সামুদ্রিক কচ্ছপ, জলে ছেড়ে দিল বনদপ্তর
বেস্ট কলকাতা নিউজ : দাসপুর থানার কুল্টিকুরিতে এক মৎস্যজীবীর জালে বিশালাকার সামুদ্রিক কচ্ছপ ধরা পড়ে। সোমবার সকালে রূপনারায়ণ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া ওই বিশালাকার কচ্ছপটিকে দেখার জন্য পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর এবং হাওড়া এই তিন জেলা থেকে মানুষের ঢল নেমে আসে। গ্রামের বাসিন্দারা কচ্ছপটি উদ্ধারের পরই তাকে কূর্ম দেবতা হিসেবে পুজো করতে শুরু করেন। কচ্ছপ উদ্ধারের খবর পেয়ে বন দপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান।

ঘাটাল মহকুমা সোশাল ফরেস্ট্রির রেঞ্জার রতন সরকার বলেন, এদিন কুল্টিকুরিতে উদ্ধার হওয়া প্রাণীটি সামুদ্রিক কচ্ছপ বা সি টার্টেল। কচ্ছপটি অলিভ রিডলে প্রজাতির। বনদপ্তরের উপস্থিতিতেই কচ্ছপটিকে ফের রূপনারায়ণ নদেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কুল্টিকুরি গ্রামের বাসিন্দা মৎস্যজীবী রাজকুমার বারিক অন্যান্য দিনের মতোই রবিবার সন্ধ্যায় বাড়ির সামনের রূপনারায়ণ নদে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলেছিলেন। রাজকুমারবাবু বলেন, এদিন সকালে জালটি গুটানোর সময় বিশাল টান লাগে। লোক জড়ো করে জালটি অনেক কষ্টে ডাঙায় তুলতে দেখা যায় প্রায় ৫০-৬০কেজি ওজনের ওই কচ্ছপটি জালের মধ্যে আটকে রয়েছে। কচ্ছপটি জাল থেকে বেরোনোর চেষ্টাও করেছিল। ফলে জালের বেশ কিছু জায়গা ছিঁড়েও গিয়েছে। এতো বড় কচ্ছপ রূপনারায়ণ নদে এর আগে কখনও দেখা যায়নি। তাই স্বভাবতই কচ্ছপটি উদ্ধারের খবর পেয়ে তিন জেলার বহু কৌতূহলী মানুষ কুল্টিকুরীতে যান। সেখানে অত্যুৎসাহী মানুষজন বিষ্ণুর দ্বিতীয় অবতার কূর্ম দেবতা হিসেবে সিঁদুর পরিয়ে পুজোরও ব্যবস্থা করেন। তারপরই বন দপ্তরের নির্দেশে তাকে ফের রূপনারায়ণে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদের মূলত প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরের উষ্ণ জলে বাস করতে দেখা যায়। এরা সমুদ্রের গভীরে বাস করলেও ডিম পাড়ার জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে ওড়িশার ঋষিকুল্যা বা গহিরমাথা মতো সৈকতে দলবেঁধে যায়। এদের প্রধান বৈশিষ্ট, এরা খুব শান্ত প্রকৃতির প্রাণী। এরা মূলত সর্বভুক, অর্থাৎ মাছ, জেলিফিশ, কাঁকড়া এবং সামুদ্রিক শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে। এদের শরীরের খোলসটি বেশ শক্ত হয় যা এদের শিকারি প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষা করে।

