বারাণসীতে মণিকর্ণিকা ঘাটে চলল বুলডোজার, ভাঙা হল অহল্যাবাঈয়ের মূর্তি ও প্রাচীন মন্দির, নিন্দার ঝড় উঠলো দেশ জুড়ে

বাংলার খবর | বেস্ট কলকাতা নিউজ

বেস্ট কলকাতা নিউজ : সৌন্দর্যায়ন ও সংস্কার! তার জন্য ভেঙে ফেলা হল বারাণসীর ঐতিহ্যবাহী মণিকর্ণিকা ঘাটের একাংশ। এই নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্রে। শুধু বিরোধীরাই নয়, প্রতিবাদে সরব একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনও। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই সংস্কার চলছে মণিকর্ণিকা ঘাটে। অভিযোগ, এই কাজে ৩০০ বছর পুরনো মন্দির মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে মারাঠা রাজমাতা অহল্যাবাঈ হোলকরের শতাব্দী প্রাচীন মূর্তিও। বিষয়টি নিয়ে তুমুল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারপরই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বারাণসীর জেলাশাসক সত্যেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, কাজ শেষ হলে সমস্ত কাঠামো পুনর্নির্মাণ করে মূর্তিগুলিকে যথাযথ সম্মান দিয়ে বসিয়ে দেওয়া হবে।

প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি দাহকার্য সম্পন্ন হয় মণিকর্ণিকা ঘাটে। কাশী বিশ্বনাথ করিডর প্রকল্পের অধীনে এটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে এই ঐতিহাসিক স্থানের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তথা বারাণসীর সাংসদ মোদি। কিন্তু, বন্যার কারণে দীর্ঘদিন কাজ আটকে ছিল। সম্প্রতি ফের সেই কাজ শুরু হয়েছে। তারপরই বুলডোজার চালিয়ে ঘাটের একাংশ ভেঙে ফেলেছে। এই ঘটনার পরই বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তাঁর অভিযোগ, নিজের নেমপ্লেট লাগাতে সমস্ত ঐতিহাসিক স্থানগুলিকে ধ্বংস করছেন প্রধানমন্ত্রী। বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যেই শতাব্দী প্রাচীন সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে বুলডোজার চালিয়ে ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছেন মোদি। তাঁর প্রশ্ন, ঐতিহ্য রক্ষা করে কি সংরক্ষণ, সৌন্দর্যায়নের কাজ করা সম্ভব নয়? কেন মণিকর্ণিকা ঘাটের শতাব্দী প্রাচীন মূর্তি ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হল? উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা অজয় রাইয়ের তোপ, বারাণসীর আত্মা ও সনাতন সংস্কৃতি উপর হামলা করেছে বিজেপি। সরব একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনও। সনাতন রক্ষক দলের সভাপতি অজয় শর্মা বলেন, ঘাটের একাধিক মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। প্রতিটি মূর্তির প্রাণ-প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। যন্ত্র দিয়ে এসব ভেঙে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অহল্যাবাঈ হোলকরের সঙ্গে ইন্দোরের গভীর যোগ ছিল। মারাঠা রানীর মূর্তি ভেঙে ফেলায় সেখানেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, দেবী অহল্যাবাঈয়ের দু’টি মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়েছে। খবর পাওয়ার পরই হোলকরের পরিবারের বংশধর যশবন্ত রাও হোলকর (তৃতীয়) বাণারসীতে ছুটে যান। মণিকর্ণিকা ঘাট ঘুরে দেখেন তিনি। অহল্যাবাঈ নির্মীত মন্দির ভাঙার ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন যশবন্ত। প্রশাসনের সমালোচনা করেছে পাল সমাজ সমিতি এবং স্থানীয় মারাঠি সম্প্রদায়ও। সার্বিকভাবে এই ঘটনায় বেজায় চাপে বিজেপি শিবির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *