আউশগ্রামে বন্ধ সরকারি শালপাতার কারখানা, থার্মোকলের দৌরাত্বে জীবিকা হারাচ্ছেন আদিবাসীরা
বেস্ট কলকাতা নিউজ : সত্তর-আশির দশকের বিয়েবাড়ি মানেই শালপাতার থালায় গরমাগরম ভিন্নস্বাদের রকমারি পদে উদরপূর্তি। এ-যেন এক আলাদাই অনুভূতি! তবে, বর্তমানে থার্মোকল ও কাগজের প্লেটের দাপটে সেসব এখন অতীত। আদিবাসীদের এখন আর শালপাতা কুড়িয়ে সংসার চলে না। আউশগ্রামে একসময় বনদপ্তরের তরফে গড়ে তোলা শালপাতার প্লেট তৈরির কারখানাগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বহু শ্রমিক পেশা বদল করেছেন। সংসারের জোয়াল টানতে কেউ দিনমজুরি, কেউবা অন্যের দোকানে কাজ করছেন। মহিলারা কৃষিকাজে ফিরে গিয়েছেন। আর বন্ধ কারখানাগুলিতে লক্ষাধিক টাকার মেশিন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এহেন অসম বাজারে টিকে থাকতে আদিবাসীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইছেন।

আদিবাসীরা বলেন, শালপাতার থালা বিক্রি করে তৈরির খরচটুকুও ওঠে না। তারচেয়ে অনেক কম দামে বাজারে থার্মোকল কিংবা কাগজের প্লেট বিক্রি হয়। তাই শালপাতার প্লেটের কদর কমেছে। দু’হাজার পিস শালপাতা জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করতে ৮০০টাকা মজুরি দিতে হয়। সেলাই বাবদ খরচ হয় ১৩০টাকা। মেশিনে প্লেট তৈরি করতে মজুরি দিতে হয় ১০০টাকা। এছাড়া, জঙ্গল থেকে পাতাবোঝাই টোটো ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ আরও ১০০টাকা খরচ হয়ে যায়। সবমিলিয়ে দু’হাজার পিস শালপাতার থালা তৈরিতে খরচ পড়ে ১১৩০টাকা। আর বাজারে তা বিক্রি করে আদিবাসীরা পান ৭৫০ থেকে বড়োজোড় ৯৫০টাকা। তাই লোকসান করে আর কেউ কারখানা চালাতে রাজি নন।ডোমবাঁধি গ্রামের বাসিন্দা বৈদ্যনাথ টুডু বলছেন, লোকসান করে কারখানা চালানো সম্ভব নয়। বনদপ্তর কলকাতায় মার্কেটিংয়ের ব্যবস্থা করে দিলে আমাদের জীবিকাটা টিকিয়ে রাখা যেত।

