কুমোরটুলিজুড়ে নেই কোনো রকম ব্যস্ততা, পেটের টানে এখন শীতলা-রক্ষাকালীই একমাত্র ভরসা মৃৎশিল্পীদের
বেস্ট কলকাতা নিউজ : সামনে নেই কোন বড় পুজো। তাই কুমোরটুলি অনেকটাই শুনশান। পটুয়াপাড়াজুড়ে দেখা গেল না সেই চূড়ান্ত ব্যস্ততা। বিভিন্ন মৃৎশিল্পীর ঘরে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে কোন কোন শিল্পী বরাত পাওয়া দু একটি রক্ষাকালী, শীতলা কিংবা, ব্রম্বা বিষ্ণু মহেশ্বরের মৃর্তি তৈরি করতে। মৃৎশিল্পীদের বক্তব্য, ‘পেট বড় বালাই। আর সে কারণে যা বরাত পাই, সেই প্রতিমাই তৈরি করি। প্রতিদিন খরচা হু হু করে বাড়ছে। কর্মচারীদের মায়না, বাজারে দেনা সব মেটাতে গিয়ে কাল ঘাম ছুটে যাচ্ছে। তাই চুপ করে বসে থাকলে তো আর চলবে না।’
মৃৎশিল্পী রাজা পাল বলেন,‘চলতি মাসে চারটি মা শীতলা মূর্তির বরাত পেয়েছি। তার আগে নববর্ষ ও অক্ষয় তৃতীয়াতে কয়েকটি মাঝারি মাপের গণেশ মূর্তির বরাত পাই। এখন দু’টি বিবেকানন্দের ফাইবারের মূর্তির বরাত পেয়েছি। তার কাজ চলছে।’ শিল্পী চায়না পাল বলেন,‘এই সময় বাজার কিছুটা মন্দা থাকে। কিন্তু তারই মধ্যে রক্ষাকালীর ৫ ৬টির বরাত পেয়েছি। এছাড়া অন্যান ছোট খাট নানা পুতুল মূর্তির যে বরাত পেয়েছি তার কাজ চলছে। শীতলার মূর্তি যাবে কলকাতার আশপাশ এলাকায়।’

এদিকে কুমোরটুলির রবীন্দ্র সরণি, বনমালি সরকার স্ট্রিট, কুমোরটুলি স্ট্রিট সহ পটুয়াপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা সেখানে কয়েকজন শিল্পী বিভিন্ন কাঠামো তৈরির কাজে ব্যস্ত। তাঁরা জানান ,‘যেহেতু এখন বড় কোন পুজো নেই, সে কারণে আগামী পুজোর কথা চিন্তা করে এখন থেকেই গণেশ, লক্ষ্ণী, সরস্বতী, কার্তিক প্রভৃতি প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ করছি। এই সমস্ত কাঠামো গোডাউনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’ তাঁদের কথায়,‘এই সময় তো সব শিল্পী আর শীতলা, রক্ষাকালীর বরাত পান না, তাই তাঁরা বসে না থেকে বিভিন্ন কাঠামো তৈরির কাজ করে চলেছেন।’
কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংগঠনের অন্যতম কর্তা বাবু পাল বলেন,‘আষাঢ মাস পড়লেই পটুয়াপাড়া আস্তে আসে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে। কারণ প্রথা মেনে রথের দিন অনেকেই কাঠামো পুজো করে সেই কাঠামো দিয়ে দুর্গা প্রতিমার বরাত দিয়ে থাকেন কুমোরটুলিতে। তাই একপ্রকার তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় দুর্গা প্রতিমা তৈরির কাউন ডাউন। এখন থেকেই গত বছরে যাঁরা দুর্গা প্রতিমার বরাত দিয়ে ছিলেন, সেই পুজো উদ্যোক্তাদের তরফে কেউ কেউ আগাম ফোন করে বরাত দেওয়ার কথা বলেন। আনুষ্ঠানিকভাবে রথের দিন কিছু টাকা জমা দিয়ে সেই প্রতিমার বরাত দিয়ে যাবেন।

